পঞ্চগড়ে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের মামলায় দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের দেহরক্ষী পুলিশ সদস্য সিরাজুল ইসলামকে (৩০) কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী হাবিবুল ইসলাম হাবীব। এর আগে গত বুধবার (১৩ মে) পঞ্চগড় আমলি আদালত-২ এর বিচারক মো. মোস্তাকিম ইসলাম শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৮ জুন পঞ্চগড় পৌরসভার তেলিপাড়া এলাকার মোবারক হোসেনের মেয়ে মাহাবুবা সুলতানা মায়ার সঙ্গে ঠাকুরগাঁও জেলার রুহিয়া কনি কশালগাঁও এলাকার ইন্তাজুল ইসলামের ছেলে সিরাজুল ইসলামের বিয়ে হয়। বর্তমানে সিরাজুল ইসলাম দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের দেহরক্ষী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বিয়ের পর থেকেই পরিবারের সদস্যদের পরামর্শে স্ত্রী মায়ার ওপর যৌতুকের জন্য মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাতে থাকেন সিরাজুল। এ নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। পরে ভুক্তভোগী পঞ্চগড় আমলি আদালত-১ এ একটি যৌতুক মামলা এবং পারিবারিক আদালতে দেনমোহর ও খোরপোষের মামলা দায়ের করেন। পরে আপোষ-মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি মামলা প্রত্যাহার করিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন বাদী।
এ সময় আপোষের কাগজ জমা দেওয়ার কথা বলে একটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে মাহাবুবা সুলতানা মায়ার স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে সেই স্বাক্ষর ব্যবহার করে এফিডেভিট তৈরি এবং স্বেচ্ছায় তালাক দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মায়ার বাবার কাছে ৬ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া যৌতুকের টাকা না দিলে সিরাজুল অন্যত্র বিয়ে করবেন বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। পরে পরিস্থিতি জটিল হলে ভুক্তভোগীর স্বাক্ষর জাল করে একটি স্ট্যাম্প ফেরত দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি পুনরায় যৌতুকের মামলা দায়ের করেন মাহাবুবা সুলতানা মায়া। মামলার বাদীর বাবা মোবারক হোসেন বলেন, সিরাজুল ও তার বাবা আমার মেয়ের ওপর যৌতুকের জন্য নির্যাতন চালাতো। আমরা মামলা করার পর নানা কৌশলে তা প্রত্যাহার করিয়ে নেয়। পরে আবার আগের মতো নির্যাতন শুরু হয়। আমরা আদালতের কাছে ন্যায্য বিচার চাই।
বাদীপক্ষের আইনজীবী হাবিবুল ইসলাম হাবীব বলেন, দেনমোহর ও খোরপোষ বাবদ ২৪ লাখ ১০১ টাকা পরিশোধের আশ্বাস দিয়ে আগের মামলা প্রত্যাহার করানো হয়েছিল। কিন্তু পরে আদালতে মাত্র চার লাখ টাকার দেনমোহরের কাগজ দাখিল করা হয়। আদালত নথিপত্র পর্যালোচনা করে বিষয়টি বুঝতে পেরে আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।





