Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
জেলার খবর

পঞ্চগড়ে আদালতে বিচারক কে লক্ষ্য করে জুতা নিক্ষেপ তরুণীর

admin • 11 Dec 2023, 07:41 PM • পঠিত 0 বার
শেয়ার করুন:
পঞ্চগড়ে আদালতে বিচারক কে লক্ষ্য করে জুতা নিক্ষেপ তরুণীর

পঞ্চগড় সদরের একটি হত্যা মামলার আসামিদের জামিন দেয়ায় পঞ্চগড়ে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক অলরাম কার্জীকে লক্ষ্য করে জুতা নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মামলার বাদী মিনারা আক্তারকে (২৫) আটক করেছে আদালতের কোর্ট পুলিশ। আদালতে বিচারককে লক্ষ্য করে জুতা নিক্ষেপ করার পর তরুণীকে আটক করেছে কোর্ট পুলিশ।

সোমবার (১১ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার সময় পঞ্চগড়ে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আমলী আদালত-১ এ ঘটনাটি ঘটে।

অভিযুক্ত মিনারা আক্তার সদরের সাতমেরা এলাকার ইয়াকুব আলীর মেয়ে। সে সদ্য মকবুলার রহমান সরকারি কলেজ থেকে স্নাতক ( সম্মান) পরীক্ষা দিয়েছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ ডিসেম্বর জমি নিয়ে বিরোধে ইয়াকুব আলীর মৃত্যু হয়। ওইদিন রাতেই মিনারা বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সোমবার আসামিদের মধ্যে প্রধান আসামিসহ তিনজন বাদে ১৬ আসামি আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করে।

নিহতের পরিবার বিচারকের উপর হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, "টাকার বিনিময়ে বিচারক অন্যায়ভাবে আসামিদের জামিন দিয়েছেন। এ ঘটনায় ক্ষোভে মিনারা আদালত প্রাঙ্গণে চিৎকারসহ আর্তনাদ করলে তাকে আটক করে কোর্ট পুলিশ। নিহতের পরিবার এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।"

এদিকে ঘটনার পর আদালত চত্বর এলাকা উত্তেজনা পরিস্থিতি বিরাজ করলে প্রায় একঘণ্টা আমলী আদালত-১ এর বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ থাকে।

নিহতের বড় ছেলে ফারুক হোসেন গণমাধ্যমকে অভিযোগ করে বলেন, " আজ আমার বাবার কুলখানি। এর মাঝে তারা আমাদের দায়ের করা মামলায় জামিন নিতে আসে। আদালত বিবাদীর পক্ষ থেকে টাকা খেয়ে তাদের জামিন দিয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।"

একই কথা জানান মিনারার বড় বোন ফাহিমা আক্তার। তিনি বলেন, " আমরা আমাদের বাবার হত্যার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে মামলা দায়ের করেছি। কিন্তু আদালত কীভাবে এই হত্যা মামলায় আসামিদের জামিন দিল এটা আপনারাই বলুন।"

আটক মিনারা আক্তারের ভাবি রৌশনা বেগম জানান, " বিচার চাইতে এসে আমাদের বাদীকে উল্টো আটক করা হয়েছে। হত্যার মামলা তারপরেও আসামিদের জামিন দিয়ে উল্টো আমার ননদকে আটক করেছে আদালত। আমরা হত্যার বিচারসহ মিনারার মুক্তি চাচ্ছি।"

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আহসান হাবীব গণমাধ্যম কে বলেন, " আমার বাদী যে মামলাটি করেছে সেটি ৩০২ ধারার মামলা। এদিকে যিনি মারা গেছেন আজকে তার কুলখানি। এর মাঝে আসামিপক্ষ জামিন নিতে আদালতে আসলে আদালত তাদের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। এর মাঝে আমারা আমাদের বাদীকে বিষয়টি অবগত করি। আদালত যেকোনো রায় দিতে পারে, কিন্তু আমরা কখনো দেখিনি যে হত্যা মামলায় আসামিদের সরাসরি জামিন দিতে। আমরা দেখেছি বিচারক অলরাম কার্জী ৩০৭ ধারার মামলার জামিন দিতে গড়িমসি করে। ৩২৩ ধারার মামলা ক্ষেত্র বিবেচনায় হাজতে নেন। তাহলে সরাসরি জড়িত থাকা এমন একটি মামলায় তিনি কীভাবে জামিন দিলেন। আজকে আসামিদের জামিন দিয়ে আমাদের বাদীকে কোর্ট পুলিশি হেফাজতে আটক করে রাখা হয়েছে।"

অপরদিকে বিবাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রাকিবুত তারেক বলেন, " এই মামলায় যারা মূল আসামি তারা অনুপস্থিত ছিল। সম্ভবত মূল আসামি না থাকায় অন্যদের আদালত বিবেচনা করে জামিন দিয়েছে। এর মাঝে আদালতের রায় শেষে বাদী আদালত থেকে বের হওয়ার সময় বিচারকে লক্ষ করে তার পায়ের জুতা তুলে নিক্ষেপ করেন।"

এদিকে সন্ধ্যায় পঞ্চগড় জেলা জজ আদালত পুলিশের পরিদর্শক (কোর্ট ইন্সপেক্টর) জামাল হোসেন গণমাধ্যম কে বলেন, "আদালতের শুনানি শেষে আদালত আসামিদের জামিন দিলে বাদী কাঠগড়ায় উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এসময় নারী পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে তাকে সেখান থেকে নামানোর জন্য চেষ্টা করা হয়। এদিকে আদালত থেকে বের হওয়ার সময় ক্ষিপ্ত হয়ে ওই তরুণী বিচারককে লক্ষ্য করে জুতা নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় আমরা প্রাথমিক ভাবে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। আদালতের নির্দেশসহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

তবে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত এ রিপোর্ট লেখা হলেও ওই তরুণীকে আদালতে কোর্ট পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। ন্যায় বিচারের দাবি স্থানীয় সচেতন মহলের।।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।