পঞ্চগড়ের অধিকাংশ পেট্রোল পাম্পে নিয়মিতভাবে ভেজাল ও নিম্ন গ্রেডের জ্বালানি তেল বিক্রি হচ্ছে বলে ভোক্তাদের অভিযোগ। এসব তেল পরিমাপে কম দেয়ার পাশাপাশি এর দুর্গন্ধ ও মানহীনতা যানবাহনের যান্ত্রিক ত্রুটি সৃষ্টি করছে। অভিযানের পরও থামেনি অসাধু ব্যবসা।
জেলা শহর থেকে শুরু করে উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকাতেও বিধি বহির্ভূতভাবে বিস্ফোরক লাইসেন্স ছাড়াই পেট্রোল, ডিজেল, অকটেন সরবরাহ করা হচ্ছে। পঞ্চগড় শহরের করতোয়া, কাঞ্চনজঙ্ঘা, এস বি মাহি, মৈত্রী ফিলিং স্টেশনসহ কয়েকটি পাম্পের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ উঠেছে আটোয়ারী এলাকায় প্রতিষ্ঠিত মাহি প্রেট্রোল পাম্প থেকে এসব ভেজাল জ্বালানী তেল সমগ্র উপজেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘ এক যুগ ধরে এই পাম্প থেকে ভেজাল তেলের রমরমা ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রেট্রোল, ডিজেল থেকে দুর্গন্ধ বের হয়। এই তেল ব্যবহার করে অনেকের যানবাহন অল্প সময়ে বিকল হয়ে গেছে। অনেকে বলছেন জ্বালানী তেল মাপেও কম দেয়া হয়।
বিগত সরকারের ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলামের ছত্রছায়ায় এই পাম্পে অবৈধভাবে পরিচালিত হতো। গত ৫ আগস্টের পরে এই পাম্পে ভেজাল তেলের অভিযোগে স্থানীয়রা তাদেরকে সংশোধন হওয়ার তাগাদা দেয়। গত জুন মাসে ভেজাল তেল বিক্রির অভিযোগে ভোক্তা অধিকারও পাম্পটিকে জরিমানা করে। কিন্তু তারপরও ভেজাল জ্বালানী তেল বিক্রি বন্ধ হয়নি। পাম্পটির বিস্ফোরক ছাড়পত্রও নেই। নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র।
পাম্প কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা পদ্মা ওয়েল কোম্পানির পার্বতীপুর ডিপো থেকে স্যাম্পলসহ ভেজাল মুক্ত জ্বালানী তেল ক্রয় করেন। পরে তা আটোয়ারী এলাকার বিভিন্ন যানবাহন এবং খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করেন। শুক্রবারে তেল কেনার নিয়ম না থাকলেও গভীর রাতে পাম্পের রিজার্ভ ট্যাংকে তেল ভরানো হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাহি পাম্পে পদ্মা ওয়েলের কোনো স্যাম্পল পাম্পে নেই। পাম্প স্থাপনের অধিকাংশ শর্ত পূরণ না করেই পাম্পটি স্থাপন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে পদ্মা ওয়েল কোম্পানির এ অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিএমও আবু সাকিল জানান, পদ্মাওয়েলের কাছে জ্বালানী ক্রয় করার সময় কাঁচের বোতলে স্যাম্পল দেয়া হয় এবং তা পাম্পে রাখার নির্দেশনাও দেয়া হয়। যাতে কোনভাবে পদ্মা ওয়েলের সুনাম নষ্ট না হয়। শুক্রবারে ডিপো থেকে কোন জ্বালানী তেল সরবরাহ করা হয় না।
স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, আর কোন পাম্প না থাকায় সব সময় এই পাম্প থেকে জ্বালানী তেল নিতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই পাম্পে অবৈধভাবে ভেজাল জ্বালানী তেল বিক্রি হয়। গাড়ি খুব তাড়াতাড়ি বিকল হয়ে যায়। পেট্রোল, ডিজেল, অকটেন থেকে দুর্গন্ধ বের হয়। এই পাম্পের ভেজাল তেলে বাজার সয়লাব হয়ে উঠেছে।
তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল চালক মির্জাপুর এলাকার আব্দুল জব্বার জানান, তেলে অনেক দুর্গন্ধ। পেট্রোলে তো পেট্রোলের গন্ধ থাকার কথা। এগুলো ভেজাল তেল। পুরাতন আটোয়ারী এলাকার গোপাল চন্দ্র সরকার একই অভিযোগ করেন।
পাম্পের ম্যানেজার আল আমিন জানান, একই মালিকানার আরেকটি পাম্প ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গি উপজেলায় রয়েছে। আলি ফিলিং স্টেশন নামের ওই পাম্প থেকে এই পাম্পে তেল পাঠানো হয়। দুটি পাম্পের মালিকই আওয়ামী লীগ নেতা দবিরুল এমপির ছোট ভাই মোহম্মদ আলী। সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলাম ও তার ছেলে কারাগারে রয়েছে। ভাই মোহম্মদ আলীর নামেও একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি পলাতক রয়েছেন। মোহম্মদ আলীর মেয়ে রুনা আক্তার বর্তমানে পাম্প দুটি দেখা শোনা করছেন। তার স্বামী একজন পুলিশ কর্মকর্তা।
রুনা আক্তার জানান, গত ৫ আগস্টের পর আমার পাম্পগুলো ভাঙচুর হয়েছে। তেল লুটপাট করা হয়েছে। আমি মাসে একবার পাম্পে যাই। বালিয়াডাঙ্গিতে আমাদের আরেকটি পাম্প আছে। সেখানে সকল কাগজ পত্র আছে। ভেজাল তেল বিক্রি করা হয় না। যারা অভিযোগ করেছেন তারা মিথ্যা বলেছেন।
ভোক্তারা অভিযোগ করেছে ভেজাল জ্বালানী তেলে সারা জেলা উপজেলা সয়লাব হয়ে উঠেছে। তারা ভেজাল বিরোধী অভিযানে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।





