Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
জেলার খবর

সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের খোয়া, ঠিকাদার আ.লীগ নেতা

admin • 07 Jun 2024, 09:25 PM • পঠিত 0 বার
শেয়ার করুন:
সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের খোয়া, ঠিকাদার আ.লীগ নেতা

সাকিব আল হাসান নাহিদ,জামালপুর।

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার ঝাউগড়া ইউনিয়নে ৫০০ মিটারের পাকা একটি সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে এক আওয়ামীলীগ নেতার বিরুদ্ধে। ৫০০ মিটার সড়কটি পাকা করণের নির্মাণ কাজ পেয়েছেন মের্সাস বাংলাদেশ বিল্ডার্স নামে একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।

তবে ওই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজটি বিক্রি করে দিয়েছেন ঝাউগড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম রুশোর কাছে। ওই আওয়ামী নেতাই এখন সড়ক নির্মাণের কাজ করেছেন। তবে, সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করা হয়নি বলে জানিয়েছেন ওই আওয়ামী লীগ নেতা।

এলাকাবাসী বলেছেন,'সড়ক পাকা করার কাজটি একেবারেই নিম্নমানের ও দায়সারাভাবে রাস্তার কাজ করছেন। সবাই দেখেও কেউ কিছু বলছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, পশ্চিম ঝাউগড়া পইরবাড়ি থেকে কিফায়াত শেখের বাড়ি পর্যন্ত ৫০০ মিটার সড়ক পাকা করার কাজ চলছে। এই সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করছেন ঠিকাদার।

সেই খোয়া হাত দিয়ে ধরলেই ভেঙে যায়। ঠিকাদার প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ কোনও কথা বলতে সাহস পায় না। সড়কে কাজ আরও খারাপ করলেও স্থানীয় লোকজন কেউ কোনও কথা বলবে না।

উপজেলার এলজিইডি কার্যালয় সূত্র জানা গেছে,'ঝাউগড়া ইউনিয়নের পশ্চিম ঝাউগড়া পইরবাড়ী জিপিএস থেকে কিফায়াত শেখের বাড়ী পর্যন্ত ৫০০ মিটার রাস্তা পাকা করার ব্যয় ধরা হয়েছে ৭০ লাখ ৫৪ হাজার ৮৫৪ টাকা টাকা। দরপত্রের মাধ্যমে মের্সাস বাংলাদেশ বিল্ডার্স কার্যাদেশ দেওয়া হয়। তবে ওই রাস্তা পাকা করণের কাজটি ঝাউগড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম রুশো কাছে বিক্রি করে দেন বাংলাদেশ বিল্ডার্স ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি। রাস্তা পাকা করার কাজ শুরু কথা ছিল এ বছরের ২ মার্চ, কাজটি সম্পূর্ণ শেষ করার কথা ৩১ জুলাই।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়,'৫০০ মিটারের বালি ভরাটের কাজ শেষ হয়েছে। এখন সড়কের সাববেজের (নিচের স্তর) কাজ চলছে। সড়কের পাশের মাটি ভরাটও করা হয়েছে। পুরো সাববেজের জন্য ব্যবহৃত করা হয়েছে নিম্নমানের ইটের খোয়া । স্থানীয়ভাবে যা রাবিশ বলে পরিচিত। ইটের গুঁড়ামিশ্রিত ব্যবহার অযোগ্য ইটের খোয়া রাস্তায় বিছানো হয়েছে। এর উপর দিয়ে বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, ‘নিম্নমানের খোয়া দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। আরও যদি নিম্নমানের কাজ হয় তাও স্থানীয়রা কিছু বলতে পারবে না। উপজেলা এলজিইডি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করে থাকে।’

এ প্রসঙ্গে মেসার্স বাংলাদেশ বিল্ডার্সের সত্ত্বাধিকারী মো. আতিকুর রহমান আতিক বলেন, ‘কাজটি আমি বিক্রি করে দিয়েছি। যিনি কাজ করছেন তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা। কাজের মান নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলব। সঠিকভাবে কাজ করতে বলে দেব।’

সড়ক পাকাকরণ কাজের ঠিকাদার ও আওয়ামী নেতা মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম রুশো বলেন, ‘রাস্তায় কোনও ধরনের নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করা হয়নি। নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগটি মিথ্যা।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুবা হক বলেন, ‘আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানলাম। দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিকে জানাবো। প্রয়োজনে নিজে সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব ’।

এ বিষয়ে জামালপুরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে নির্বাহী প্রকৌশলী (এলজিইডি) উজ্জল ত্রিপুরা বলেন, ‘বিষটা আমার নলেজে আছে। কাজটি দেখার জন্য টিম করে দেওয়া হয়েছে। তারা কাজটি দেখবেন।’

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।