দেবীগঞ্জ(পঞ্চগড়) প্রতিনিধি:
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন চেয়ারম্যানের সাথে পরকীয়ায় অভিযুক্ত সাবেক মহিলা ইউপি সদস্য রাশেদা বেগম।
মঙ্গলবার( ৪ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় পৌরসদরের আপন নীড় হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টে এক সংবাদ সম্মেলনে পামুলী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের সাথে পরকীয়ার অভিযোগ এবং এলাকাবাসীর করা মানববন্ধনের প্রতিবাদ জানান ঐ সাবেক মহিলা ইউপি সদস্য। এসময় তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে প্রকাশিত সংবাদ ও অভিযোগ মিথ্যা এবং নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে রাশেদা বেগম বলেন, পামুলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম এবং সাবেক চেয়ারম্যান ফজলে হায়দার প্রধান এর কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এরকম জঘন্যতম অপবাদ দিয়ে সমাজে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করেছেন। এছাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিরোধিতার জের ধরে আমার প্রাক্তন স্বামী পামুলী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনিভূষন রায়ের বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র করেছে।
রাশেদা বেগম আরো বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত আমার ছবিটি ভুয়া এবং বানানো। আমার সাথে চেয়ারম্যান মনিভূষন রায়ের ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক রয়েছে কিন্তু এর বাইরে আর অন্য কোন সম্পর্ক নেই। চেয়ারম্যান মনিভূষন রায় নি:সন্দেহে একজন ভালো মানুষ। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের নেতা হওয়ার দরুন বিপদে আপদে আমি তার কাছে সাহায্যের জন্য যাই এবং তিনি আমাকে বোনের মতই সাহায্য করেছেন।
গর্ভের সন্তান প্রাক্তন স্বামীর দাবি করে রাশেদা বেগম বলেন, পারিবারিক বনিবনা না থাকার কারনে আমার প্রাক্তন স্বামী আবু সাঈদকে আমি আইনগত ভাবেই ডিভোর্স দিয়েছি। যার কারনে সে আমার নামে বিভিন্ন প্রকার কুৎসা রটাচ্ছে। আমার গর্ভে যে অনাগত সন্তান রয়েছে তার পিতা আমার প্রাক্তন স্বামী আবু সাঈদ। এবিষয়ে সে আগে থেকেই অবগত থাকা সত্বেও কুচক্রী মহলের সাথে হাত মিলিয়ে আমার নামে মামলা করেছেন। আমি এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ও ষড়যন্ত্রের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
উল্লেখ্য, গত ২ জুন পামুলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মহিলা ইউপি সদস্য রাশেদা বেগমের সাথে পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগে পামুলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মনিভূষন রায়ের পদত্যাগ ও শাস্তির দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করে পামুলী ইউনিয়নের প্রায় শতাধিক মানুষ। এর আগে গত ২২ মে রাশেদা বেগমের স্বামী আবু সাঈদ তার স্ত্রী ও চেয়ারম্যান মনিভূষন রায়ের নামে দেবীগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।





