Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
এক্সক্লসিভ

নদীতে ঝাঁপ দিয়ে ফারদিনের মৃত্যু, বললো র‌্যাব

admin • 14 Dec 2022, 09:17 PM • পঠিত 0 বার
শেয়ার করুন:
নদীতে ঝাঁপ দিয়ে ফারদিনের মৃত্যু, বললো র‌্যাব

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী ফারদিন নূর পরশের মৃত্যু হয়েছে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে। এতথ্য জানিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এ কথা বলেন সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। 

এর আগে একই তথ্য জানায় ঢাকা মহানগর (ডিএমপি) গোয়েন্দা পুলিশ।

র‌্যাব জানায়, সুলতানা কামাল ব্রিজের ওপর থেকে শীতলক্ষ্যা নদীতে ঝাপ দিয়ে ফারদিনের মৃত্যু হয়েছে। 

খন্দকার আল মঈন বলেন, মৃত্যু মোটিভ উদ্ঘাটন করেছি। পরিবারের বাবা ও ভাইকে জানিয়েছি। চিকিৎসকের সঙ্গে দুই দিন কথা বলেছি। প্রতিটি সেকেন্ড আমরা এনালাইসিস করেছি। এতে তদন্ত বলে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

তিনি আরো জানান, গত কয়েকদিন ধরে এ বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থা ও পরিবারসহ অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি। তারপর এই প্রতিবেদন দেয়া হলো। আমরা তদন্ত করে পেয়েছি, ফারদিন লেগুনা থেকে নেমে ব্রিজের ওপরে মাঝামাঝি একটি স্থানে দাড়ায়। নিজেই ব্রিজের রেলিং পার হয় এবং নিজেই লাফ দিয়ে পানিতে পরেন। 

র‌্যাব জানায়, ফারদিন মাদকাসক্ত ছিলো না। তার গায়ে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ব্রিজের পিলারের ওপরে পরলে তো এমনটা হতে পারে। তদন্তে গিয়ে যখন যে উইনডো ওপেন হয়েছে সেটা নিয়েই আমরা কাজ করেছি। অনেকে মনে করেছে ফারদিনকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু এমন কোনো প্রমান আমরা পাইনি।

খন্দকার মঈন বলেন, চনপারা এলাকায় ডিজিটাল এলিমেন্ট পাওয়া যায়৷ তার ফোন বন্ধ হয় চনপাড়ায়। তবে তার পরে যাওয়ার সময়টায় যে কানেকশন পাওয়া যায়। তাই আমরা আগে থেকে বলে আসছি চনপারায় তার মোবাইল বন্ধ হয়।

এর আগে বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় মিন্টো রোডে নিজ কার্যালয়ে ডিএমপির ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদ বলেন, ‘সব কিছু জিজ্ঞাসাবাদ, ডাক্তার সাহেব যে কথাটা বলেছেন, ভিকটিমের কাপড়ে কোথাও ছেঁড়ার কোনো লক্ষণ আমরা পাইনি। তাকে যে মারপিট করা হয়েছে এমন কোনো চিহ্ন ছিল না। ধস্তাধস্তি বা আঘাতের চিহ্নও নেই।’

ঢাকার ডেমরার সুলতানা কামাল সেতু থেকে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফারদিন লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলেও জানান হারুন অর রশীদ।

তিনি বলেন, ‘সুরতহাল প্রতিবেদনে আঘাতের কোনো চিহ্ন নেই। আমরা তার মানসিক অবস্থা, বিভিন্ন জায়গায় চলাচল, ব্রিজের মাঝামাঝি জায়গায় ছিল তার সবশেষ অবস্থান, সেখান থেকে নিচে আবছাভাবে যে একটা শব্দ হয়েছে, পানির একটা শব্দ হয়েছে সেটা বিস্তারিত পেয়েছি। এই সব কিছু মিলিয়ে আমার কাছে আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়েছে এটা একটা সুইসাইডাল ঘটনা।’

ঘটনার দিন ফারদিন গুলিস্তান, সেখান থেকে যাত্রবাড়ী, এরপর তার বাসা পার হয়ে সুলতানা কামাল সেতুতে যান বলে জানান হারুন। যে লেগুনায় চড়ে ফারদিন সেখানে গেছেন, সেই চালকের সঙ্গে পুলিশের কথা হয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ‘তিনি (ফারদিন) কিন্তু কোনো ক্রমেই চনপাড়া বস্তির দিকে যাননি। কারণ এই লেগুনা তাকে নিয়ে গেছে ব্রিজের কাছাকাছি।’

ফারদিনের স্পেন যাওয়ার কথা ছিল জানিয়ে ডিবি প্রধান বলেন, ‘তিনি স্পেন যাওয়ার টাকাও যোগাড় করতে পারছিলেন না। তার রেজাল্ট অনেক খারাপ হচ্ছিল। প্রথম সেমিস্টারে ৩.১৫। সেটা কমে হয় ২.৬৭। তার সঙ্গে বুশরা কথা বলতেন। সেখানে হতাশার কথা শোনা যাচ্ছিল।’

চনপাড়ায় যাওয়ার কোনো তথ্য প্রমাণ ডিবি পায়নি দাবি করেন হারুন বলেন, ‘তাকে কেউ ধরে নিয়ে গেছে এ রকম কোনো তথ্য বা সিসিটিভি ফুটেজ আমরা পাইনি।’

হতাশা থেকে ফারদিন আত্মহত্যা করতে পারেন বলে মনে করছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। পুলিশের এই বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ফারদিন অত্যন্ত অন্তর্মুখী ছিলেন। সবার সঙ্গে সব কিছু তিনি শেয়ার করতে পারতেন না।

তদন্তকারীরা জানান, ফারদিনের পরীক্ষার ফল ক্রমাগত খারাপ হচ্ছিল, যেটি তার স্বজনেরা জানতে পারেননি। স্পেনে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ৬০ হাজার টাকা জোগাড় করতে তিনি হিমশিম খাচ্ছিলেন। এর মধ্যে ৪০ হাজার টাকা বন্ধুরা তাকে দিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, নিখোঁজের ৩ দিন পর গত ৭ নভেম্বর বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফারদিনের অর্ধগলিত মরদেহ নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।