Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
এক্সক্লসিভ

দ্যা মিরর অব বাংলাদেশের শুরুর সু-বাতাস!

admin • 16 Aug 2026, 01:24 PM • পঠিত 0 বার
শেয়ার করুন:
দ্যা মিরর অব বাংলাদেশের শুরুর সু-বাতাস!

২০২১ সাল—মনে হয় এই তো সেদিনের কথা! সময় কত দ্রুত চলে যায়। পেছনে ফিরে তাকালে মনে হয়, সেদিনের ছোট ছোট স্বপ্ন, পরিকল্পনা আর পরিশ্রমই আজকের একটি প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমের ভিত্তি তৈরি করেছে।

কুমারখালী নিউজ ২৪ অনলাইন নিউজ পোর্টালের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১৭ সালে। সেই সময় অনলাইন সংবাদমাধ্যমের পরিসর আজকের মতো এতটা বিস্তৃত ছিল না। তবুও আমরা চেষ্টা করেছিলাম পাঠকদের জন্য সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে নিয়মিত টকশো আয়োজন করতে।

প্রতিদিন রাত ৮টা থেকে নিয়মিত লাইভ টকশো প্রচার হতো। অতিথি হিসেবে পেয়েছিলাম অনেক গুণী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে। তাদের মধ্যে ছিলেন ব্যারিস্টার আরশান আলী সাইফ, ব্যারিস্টার শিবলী মাহাদীসহ ভূইয়া একাডেমির শিক্ষক এবং দেশের বিশিষ্ট আইনজীবীরা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনুষ্ঠানটির প্রতি দর্শক ও পাঠকদের আগ্রহও দিন দিন বাড়তে থাকে।

এরপর এলো ২০১৯-২০২০ সালের ভয়াবহ করোনা মহামারি। গোটা দেশ যখন লকডাউন ও নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, তখনও কুমারখালী নিউজ ২৪ তার কার্যক্রম চালু রাখে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান ‘স্বাস্থ্যবার্তা’ এবং শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিশেষ লাইভ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসব আয়োজনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অনেক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিল। কঠিন সেই সময়ে মানুষের পাশে থাকার সেই উদ্যোগ আজও স্মৃতির পাতায় উজ্জ্বল হয়ে আছে।

এরপর ২০২৩ সাল। একদিন হঠাৎ ব্যারিস্টার শিবলী মাহাদী ভাইয়ের ফোন। তিনি জানালেন, একটি নতুন সংবাদপত্র বা নিউজ পোর্টাল চালু করার পরিকল্পনা করছেন। কিন্তু নাম কী হবে—সেটি নিয়ে শুরু হলো আলোচনা। নানা নাম নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার পর শেষ পর্যন্ত ব্যারিস্টার আরশান আলী সাইফ ও ব্যারিস্টার জুবায়ের আক্তার ভাইয়ের সঙ্গে আলোচনা করে নাম নির্বাচন করা হলো—‘দ্যা মিরর অব বাংলাদেশ’।

নাম চূড়ান্ত হওয়ার পর শুরু হলো নতুন এক কর্মযজ্ঞ। লোগো তৈরি, তথ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন, ওয়েবসাইট তৈরি, ডোমেইন-হোস্টিং, ফেসবুক পেজ খোলা—সবকিছুই করতে হবে নতুন করে। পাশাপাশি প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি সংবাদ প্রকাশের প্রস্তুতিও নিতে হবে।

সেই সময় জুবায়ের ভাই ও সাইফ ভাই আমার কাজের জন্য একটি ল্যাপটপ পাঠিয়েছিলেন। ল্যাপটপ হাতে পাওয়ার পর শুরু হলো লোগো ডিজাইনের কাজ। প্রায় দুই-তিন দিন পর কয়েকটি ডিজাইনের মধ্য থেকে আমরা চূড়ান্তভাবে একটি লোগো নির্বাচন করি। এরপর সেটি ফেসবুক পেজসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করা হয়।

পেজ খোলার মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই পাঠকদের আগ্রহ চোখে পড়ার মতো বাড়তে থাকে। প্রথম দিনেই পেজটি পাঠকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। সেই মুহূর্তের আনন্দ, উত্তেজনা আর ব্যস্ততার কথা আজও মনে পড়লে ভালো লাগে।

এভাবেই শুরু হয়েছিল দ্যা মিরর অব বাংলাদেশের পথচলা। শুরুর সেই দিনগুলোর আরও অনেক স্মৃতি, অনেক গল্প, অনেক মানুষের ভালোবাসা জড়িয়ে আছে এই পথচলার সঙ্গে। সব গল্প হয়তো একদিনে বলা সম্ভব নয়—কিছু স্মৃতি না হয় আজও মনের গহিনে তোলা থাক।

২০২৩ সালে ব্যারিস্টার শিবলী মাহাদীর পরিচালনায়, ব্যারিস্টার আরশান আলী সাইফ ও ব্যারিস্টার জুবায়ের আক্তারের যৌথ উদ্যোগ ও সম্পাদনায় বাংলাদেশে আত্মপ্রকাশ করে দ্যা মিরর অব বাংলাদেশ। দীর্ঘ তিন বছর পত্রিকাটি বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে চলছিল। পথচলার একপর্যায়ে ব্যারিস্টার আরশান আলী সাইফ পত্রিকাটির সম্পাদনার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান।

পরবর্তীতে পত্রিকাটির প্রকাশক ও সম্পাদনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন সাবেক রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজনের কন্যা অনামিকা ইসলাম প্রিয়ম। তাঁর নেতৃত্বে আজও নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হচ্ছে দ্যা মিরর অব বাংলাদেশ। সময়ের সঙ্গে পাঠকদের ভালোবাসা ও আস্থা অর্জন করে পত্রিকাটি আজ দেশের অন্যতম জনপ্রিয় অনলাইন সংবাদমাধ্যম হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেছে।

পেছনে ফিরে তাকালে মনে হয় -একটি সংবাদমাধ্যম শুধু একটি নাম, একটি ওয়েবসাইট কিংবা একটি ফেসবুক পেজ নয়। এর পেছনে থাকে অসংখ্য মানুষের স্বপ্ন, শ্রম, ভালোবাসা, ত্যাগ এবং অসংখ্য না বলা গল্প।

দ্যা মিরর অব বাংলাদেশের এই দীর্ঘ পথচলার সঙ্গে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন, আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন,সবার প্রতি রইল আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা। শুরুর সেই দিনগুলো হয়তো অনেক দূরে চলে গেছে, কিন্তু স্মৃতিগুলো এখনো ঠিক আগের মতোই সতেজ।

সময় বদলায়, মানুষ বদলায়, পথ বদলায়—কিন্তু কিছু গল্প কখনো পুরোনো হয় না। দ্যা মিরর অব বাংলাদেশের শুরুর গল্পটিও তেমনই একটি গল্প।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।