পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বুঝিয়ে দেওয়ার এক বছর পেরিয়ে গেলেও বিদ্যুৎ সংযোগ পায়নি উপকারভোগীরা। এতে করে বিদ্যুৎ ছাড়া দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছেন তারা।
শনিবার (৭ অক্টোবর) সরজমিনে আশ্রয়ণ প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের গজপুরী আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৯ টি ঘরের মধ্যে ২ টি ঘরে পরিবার বসবাস করছেন। বাকী ঘরগুলোতে এখনো থাকতে শুরু করে নি উপকারভোগীরা। ঘরগুলোতে তালা দিয়ে রেখেছেন তারা । কিছু ঘরের খোলা জানালা দিয়ে দেখা যায় চৌকি এবং অন্যান্য আসবাবপত্র রাখা হলেও কেউ সেখানে থাকে না। ঘরের বাহিরে খড় কুটো স্তুপ করে রাখা হয়েছে।
এদিকে যেই দুটি ঘরে উপকারভোগীরা থাকতে শুরু করেছে সেগুলোতেও নেই বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। দিনের বেলায়ও ঘরে পর্যাপ্ত আলো থাকে না। রাতের বেলা কুপি জ্বলানো ছাড়া আলোর কোন ব্যবস্থা নেই।
এবিষয়ে আব্দুস সালাম নামে আশ্রয়ণ প্রকল্পের এক উপকারভোগী বলেন, "এক বছর থেকে থাকতেছি এখানে। অথচ এক বছর পার হলেও কোন ধরনের বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয় নি। বিদ্যুৎ ছাড়া অনেক কষ্ট করে দিন কাটাচ্ছি।"
আসমা বেগম নামে আরেক উপকারভোগী বলেন, "এই যে এত গরম গেল অথচ ঘরে কারেন্ট নাই। ঝড়- বৃষ্টির দিনে অনেক কষ্ট করে বাতি জ্বালিয়ে রাত কাটাতে হয়। আমরা চাই দ্রুত যেন কারেন্ট দেয়া হয়।"
এছাড়া উপকারভোগীদের পক্ষ থেকে আরো অভিযোগ করে বলা হয় আশ্রয়ণ প্রকল্পের উপকারভোগীদের প্রশিক্ষণ দেয়ার পর আর কোন খোঁজ খবর নেয়া হয় নি। এছাড়া বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় দুটি পরিবার ছাড়া অন্যরা এই ঘর গুলোতে থাকতে শুরু করে নি।
এবিষয়ে ফারজানা আক্তার নামে এক উপকারভোগী বলেন,"আমাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছিল। প্রশিক্ষণের সময় বলা হয়েছিল সবজি বাগান করার উপকরন দিবে কিন্তু প্রশিক্ষণ শেষে আমাদের আর কোন খোঁজ খবর নেয়া নি এবং কোন ধরনের সহযোগিতা করা হয় নি। এক বছর থেকে বিদ্যুৎ নাই তাই আমরা এখনো থাকা শুরু করি নাই।"
এবিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল মোমিনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "আমরা এই বিষয়ে অবগত আছি। মূলত ঐ এলাকার মানুষ নীলফামারীর বিদ্যুৎ লাইন ব্যবহার করেন। আমরা দেবীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের মাধ্যমে নীলফামারী বিদ্যুৎ অফিসের সাথে যোগাযোগ করেছি। আশ্রয়ণ প্রকল্পে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার জন্য আমারা চেষ্টা করছি। এছাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের জন্য আলাদা করে কোন বরাদ্দ আসে নি। তবুও উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে সব আশ্রয়ণ প্রকল্পে দেয়া সম্ভব না হলেও বেশ কিছু প্রকল্প এলাকায় শাক সবজির বীজ দেয়া হয়েছে।"
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শরীফুল আলমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান," আমি এখন ঢাকায় আছি। আর আমি নতুন জয়েন করেছি। আগামীকাল গিয়ে সব খোঁজ খবর নিয়ে তারপর জানাতে পারবো।" এছাড়া পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মিটিং এ ব্যস্ত আছে বলে জানান।





