Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
এক্সক্লসিভ

দেড় মণ ধান বিক্রি করেও মিলছে না একজন শ্রমিক

admin • 13 May 2026, 01:18 PM • পঠিত 0 বার
শেয়ার করুন:
দেড় মণ ধান বিক্রি করেও মিলছে না একজন শ্রমিক

জামালপুর জেলায় এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। মাঠজুড়ে পাকা ধানের সমারোহ থাকলেও হাসি নেই কৃষকের মুখে। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও শ্রমিক সংকটে ধান কাটতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন এই জেলার কৃষকরা। এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, দেড় মণ ধান বিক্রি করেও একজন শ্রমিকের এক দিনের মজুরি মেটানো যাচ্ছে না। ফলে বাড়তি খরচ ও লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন এ জেলার হাজারো কৃষক।

জেলার মেলান্দহ‌, মাদারগঞ্জ ও ইসলামপুর উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, কোথাও চলছে পাকা ধান কাটা আবার কোথাও মাড়াইয়ের কাজ। টানা কয়েক দিনের বৃষ্টির পর রোদের দেখা মিলতেই আবার মাঠে নেমেছেন কৃষকরা। অনেকে শ্রমিক নিয়ে দ্রুত ধান কাটার কাজ শুরু করেছেন, আবার কেউ কেউ মাঠেই ধান মাড়াই করে শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। রোদ ওঠায় মাঠের পাশাপাশি সড়কের পাশ ও খোলা জায়গাতেও ধান শুকাতে দেখা যায় অনেককে।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৯০০ টাকায়। অন্যদিকে একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি দিতে হচ্ছে ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা। খাবারসহ একজন শ্রমিকের পেছনে মোট খরচ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা। এতে একজন শ্রমিকের মজুরি দিতেই বিক্রি করতে হচ্ছে দেড় মণের বেশি ধান।

কৃষকদের দেওয়া তথ্য মতে, (জমি বুঝে) এক বিঘা জমির ধান কাটা ও মাড়াইয়ের জন্য অন্তত ৫ থেকে ৮ জন শ্রমিকের প্রয়োজন। শ্রমিকপ্রতি ১২০০ টাকা হিসেবে ৮ জন শ্রমিকের শুধু ধান কাটতেই খরচ পড়ছে প্রায় ৯ হাজার টাকারও বেশি। অথচ প্রতি বিঘা জমিতে গড়ে ২৫ থেকে ২৮ মণ ধান উৎপাদন হয়ে থাকে। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী প্রতি মণ ৮০০ টাকা হিসেবে ২৫ মণ ধান বিক্রি করে কৃষকের হাতে আসে প্রায় ২০ হাজার টাকা।

উৎপাদন খরচ, শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য ব্যয় হিসাব করলে প্রতি বিঘায় তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসানের আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

গুনারীতলা ইউনিয়নের জোড়খালী এলাকার কৃষক খলিলুর রহমান খলিল বলেন, জমিতে হাঁটুপানি থাকায় শ্রমিকের কাজের গতি কমে গেছে। একজন শ্রমিক দিনে পাঁচ কাঠা (৯ শতাংশ) ধান কাটতে পারলেও এখন একজন শ্রমিক দিনে সাড়ে তিন থেকে চার কাঠার বেশি ধান কাটতে পারছেন না। ফলে একই পরিমাণ জমির ধান কাটতে আগের তুলনায় বেশি শ্রমিক লাগছে, আর আমাদের খরচও বাড়ছে।

মেলান্দহের কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, হালচাষ, সেচ, সার, বীজ ও কীটনাশকসহ সব ধরনের কৃষি উপকরণের দাম বাড়ছে। উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাজারে ধানের দাম কম থাকায় লাভ তো দূরের কথা, খরচ উঠব কিনা এটা নিয়েই চিন্তায় আছি।

ইসলামপুর উপজেলার কৃষক প্রান্ত বলেন, এবার এক বিঘা জমিতে ধান চাষ করছি। কামলা (শ্রমিক) পাওয়া যায় না কয়েকজন পাইছি ১১০০ টাকা করে দেওয়া লাগবো। আবার দুপুরে খাবার ও দিতে হবো। বাজারে ধানের দাম ও নাই।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বোরো মৌসুমে জামালপুরে ১ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৫ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে পুরো জেলায় ১ হাজার ৩৬ হেক্টর জমির ধান আক্রান্ত হয়েছে। তবে উৎপাদন ভালো হলেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন চাষিরা।

সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান কেনার বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আসাদুজ্জামান খান মোবাইল ফোনে বলেন, আমরা ধানগুলো এখনও কেনা শুরু করি নাই, কৃষক পাইলেই শুরু করব। আজকে এখন পর্যন্ত এখনো ক্রয় হয় নাই। অ্যাপসের মাধ্যমে কৃষকদের আবেদন চলমান আছে। আমরা ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছি কৃষকদের গুদামমুখী করার জন্য এবং উৎসাহিত করার জন্য। কর্তনের হার জামালপুরে একটু কম থাকায় আমাদের অগ্রগতি একটু ধীরে যাচ্ছে। একজন কৃষক সর্বোচ্চ ৩ টন ধান বিক্রি করতে পারবে এবং ধানগুলো শুকনো থাকতে হবে।

কৃষকদের এমন সংকটের বিষয়ে জামালপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আলম শরীফ খান বলেন, আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি, তারা যেন এক বা দুই মাস পর ধান বিক্রি করেন। তাহলে ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এ ছাড়া সরকারি গুদামে বিক্রি করলে তারা বেশি দাম পাবেন। তবে পাইকারদের কাছে কম দামে বিক্রি করলে আমাদের কিছু করার থাকে না।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।