টানা অতিবৃষ্টি এবং অপ্রত্যাশিত পাহাড়ি পানির ঢলে ফেনী লক্ষীপুরসহ ১২টি জেলা পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। এতে চরম বিপর্যয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। এমতাবস্থায় বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছে দেশের বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন। তাদের সাথে এবার বন্যার্তদের পাশে দাড়িয়েছে জামালপুরের অরাজনৈতিক সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “স্বেচ্ছায় রক্তদানে জামালপুর”।
তথ্যমতে ফোনীসহ দেশের ১২টি জেলায় এই অপ্রত্যাশিত বন্যা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। অনেকের ঘর পানির নিচে ডুবে গেছে। অধিকাংশ রাস্তায় হাঁটুর উপর কোমর সমান পানি দেখা যায়। ফলে দুর্ভোগে পড়েছে বানভাসী মানুষ। এটি স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা বলে মনে করছেন তারা।। এর আগে কখনো এমনটা দেখেননি এটাই অনেকের দাবি।
মানুষের এই দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা করে স্বেচ্ছায় রক্তদানে জামালপুর। এই দুঃসময়ে মানুষ যখন ঘর বন্দি অবস্থায় রয়েছে ঠিক তখনি অপ্রতিরোধ্য ভাবে জেগে উঠে সংগঠনের তারুণ্য শক্তি।
বন্যার্তদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে ত্রাণ বিতরণের উদ্যোগ নেয় স্বেচ্ছায় রক্তদানে জামালপুর। এতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন সমাজের দানশীল ব্যাক্তিবর্গ। এছাড়া রাস্তাঘাট সহ সংগঠনের সেচ্ছাসেবী টিম জামালপুরের বিভিন্ন এলাকার বাড়িতে বাড়িতে গিয়েও অর্থ সংগ্রহ করে। অনলাইনেও জমা হতে থাকে অর্থ। তিনদিনের চেষ্টায় মোট ৪ লাখ পাঁচশ টাকা সংগ্রহ হয়।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২৬ আগস্ট (সোমবার) ফেনীর ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করে সংগঠনটি। কয়েকশ বন্যা কবলিত পরিবারের চাউল, তেল, ডাউল, লবন, চিড়া, মুড়ি,গুড়, মোমবাতি, গ্যাসমেচ,স্যালাইন, বিশুদ্ধ পানি, টোস্ট বিস্কুট, খেজুর,মেয়েদের জন্য প্যাড, শুকনো কাপড়৷ এছাড়া শিশুদের জন্য শিশু খাদ্য ও জরুরি ঔষধ নাপা, প্যারাসিটামল, মেট্রো বিতরণ করা হয়।
এই দুঃসময়ে এমন ত্রাণ সহায়তা পেয়ে বন্যার্তদের মাঝে মিললো স্বস্তির ছোঁয়া। স্থানীয় এক ব্যাক্তি নাম না জানানোর শর্তে বলেন, এরুম বন্না আর জীবনেও দেখিনো। আর পরিবার লই আই অনেক চিন্তার মইদ্দে আছি। ভাত-সালম রাইনতেও পারি না হানির কারণে। আজ জামালপুরের লোকদের তন কিছু ত্রান দিছে এইটা পেয়ে আর পরিবারের বহুত উপকার হইছে!
তবে এই ত্রাণ সহায়তায় শেষ নয় বন্যার্তদের যেকোনো সময় যেকোনো দুর্ভোগে পাশে থাকার অঙ্গিকারও দেন এই সংগঠনটি। এদিকে ত্রানবিতরণের সময় সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, ইসমাইল রাজু, সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান ও বিজয় হাসান সহ আরও কয়েক জনের সাথে কথা হলে তারা জানান, রক্তদানের পাশাপাশি যতদিন মানুষের এমন দুর্ভোগ আমরা বরাবরই পাশে থেকেছি, যতদিন এমন দুর্ভোগ থাকতে ততদিন আমরা মাঠে থাকবো-ইনশাআল্লাহ। বিগত কয়েক বছর থেকেই আমরা মানুষের পাশে ছিলাম,আগামীতেও থাকবো।





