Tuesday, 3 November 2026
শিরোনাম
করিমগঞ্জে জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে ৭ দিনব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন ৩ বছর বয়সে কোরআন মুখস্থ করে তাক লাগিয়ে দিল শিশু ফারিহ ভালোবেসে বিয়ে, মাদক ছাড়তে বলায় স্ত্রীকে হত্যা করল স্বামী বিএসএফ সদস্যদের রাস্তায় ফেলে পেটাল গ্রামবাসী, আহত ৩ সেই শাহজালাল রুমিকে চার সপ্তাহের মধ্যে আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ মিরপুরে পুলিশ সদস্যকে একা পেয়ে বেধড়ক পেটালেন আন্দোলনকারীরা ইসলামি বক্তা ডা.জাকির নায়েককে ভারতে ফেরত পাঠাবে না মালয়েশিয়া রাস্তায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে শ্রমিকদের সম্পর্ক নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৮০ লাখ টাকা ‘ঘুষ দাবি’, দুদকের ফাঁদে হাতেনাতে আটক সার্ভেয়ার রাজধানীর ধানমন্ডিতে বহুতল ভবনে আগুন
জাতীয়

তদন্ত ছাড়া সরকারি চাকরিজীবীদের শাস্তি নয়

• • পঠিত 15 বার
শেয়ার করুন:
তদন্ত ছাড়া সরকারি চাকরিজীবীদের শাস্তি নয়

সরকারি চাকরিজীবীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে এখন থেকে কোনো কর্মকর্তাকে আর একক সিদ্ধান্তে শাস্তি দেওয়া যাবে না। এজন্য গঠন করতে হবে তিন সদস্যের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি। এমন বিধান রেখে ‘সরকারি চাকরি (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫’-এর প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।

 

বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ সংশোধনী অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে সরকারিভাবে এই বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।

 

কী আছে সংশোধিত অধ্যাদেশে? সংশোধনী অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তি দেওয়ার আগে তিন দিনের মধ্যে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন বাধ্যতামূলক। অভিযোগ যদি কোনো নারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হয়, তাহলে কমিটিতে অবশ্যই একজন নারী সদস্য রাখতে হবে।

 

তদন্ত কমিটিকে ১৪ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ না হলে তা কমিটির সদস্যদের অদক্ষতা হিসেবে ধরা হবে এবং বিষয়টি তাদের বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনে (এসিআর) উল্লেখ থাকবে। প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

 

যদি কোনো কর্মকর্তা শাস্তি পান, তাহলে তিনি ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে রাষ্ট্রপতির কাছে আপিল করতে পারবেন।

 

গত ২৫ মে যে অধ্যাদেশটি জারি করা হয়েছিল, তাতে মাত্র সাত দিনের নোটিশে চাকরিচ্যুতির সুযোগ রাখা হয়। এমনকি অফিস প্রধানের ‘নৈতিক মূল্যবোধ’ বিবেচনায় কোনো কর্মচারী অনুগত না হলে তাকেও চাকরিচ্যুতি করার বিধান রাখা হয়েছিল। এ ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, অন্যদের উসকানি দেওয়া, বা কাজের গতি ব্যাহত করাকেও চাকরিচ্যুতির কারণ হিসেবে দেখানো হয়।

 

এসব বিধান নিয়ে দেশজুড়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ ও আন্দোলন গড়ে ওঠে। সচিবালয়েও কয়েক দফায় কর্মবিরতি হয়।

 

বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য ফোরামের কো-মহাসচিব নজরুল ইসলাম বলেন, “আমাদের আন্দোলনের মূল দাবি ছিল সামরিক শাসনামলের কালাকানুন বাতিল করা। সরকার আমাদের বক্তব্য আমলে নিয়ে সংশোধনী এনেছে, এজন্য ধন্যবাদ জানাই। যদিও ২০১৮ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা থাকতেই এই অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল।”

 

চলমান অসন্তোষের প্রেক্ষিতে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের নেতৃত্বে গত ৪ জুন একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়। তারা বিভিন্ন দফায় আন্দোলনরত সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে সুপারিশ চূড়ান্ত করে। এরপরই দেড় মাসের মধ্যে সংশোধনী অধ্যাদেশ অনুমোদন পেল উপদেষ্টা পরিষদে।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।