Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
এক্সক্লসিভ

ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন শুরু, ভোট দিচ্ছেন ২১ হাজারের বেশি আইনজীবী

admin • 29 Apr 2026, 12:33 PM • পঠিত 0 বার
শেয়ার করুন:
ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন শুরু, ভোট দিচ্ছেন ২১ হাজারের বেশি আইনজীবী

দেশের সর্ববৃহৎ বার হিসেবে পরিচিত ঢাকা আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২০২৭ কার্যকরী কমিটির নির্বাচন শুরু হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল ৯টায় এ ভোটগ্রহণ শুরু হয়। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত এক ঘণ্টার বিরতি দিয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। একইভাবে বৃহস্পতিবারও ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে মোট ২১ হাজার ৭৩১ জন আইনজীবী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

ঢাকা আইনজীবী সমিতি নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো. বোরহান উদ্দিন জানিয়েছেন, প্রথম দিনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে এবং সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এক ঘণ্টার বিরতি দিয়ে ভোট চলবে। একই সময়সূচিতে বৃহস্পতিবারও ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটগ্রহণ শেষে শুক্রবার মেশিনের মাধ্যমে সদস্য পদ এবং সম্পাদকীয় পদে হাতে ভোট গণনা করে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে দুটি প্রধান প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদ সমর্থিত আইনজীবীরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল (নীল প্যানেল) এবং জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত আইনজীবীরা আইনজীবী ঐক্য পরিষদ (সবুজ প্যানেল) থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। উভয় প্যানেল থেকে ২৩ জন করে মোট ৪৬ জন প্রার্থী বিভিন্ন পদে লড়ছেন। এছাড়া স্বতন্ত্রভাবে আরও ৮ জন প্রার্থী বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

 

রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এবারই প্রথম আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। তবে একাধিক আওয়ামী লীগ-সমর্থিত আইনজীবী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে আগ্রহ দেখালেও ‘অনুমতি’ না মেলায় তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনকে ঘিরে সুষ্ঠু ভোট ও বিজয়ের প্রত্যাশা করছে উভয় প্রধান প্যানেল।

 

নীল প্যানেল থেকে সভাপতি পদে মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ আবুল কালাম খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই প্যানেলের অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. রেজাউল করিম চৌধুরী, সহ-সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান (আনিস), সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. এলতুতমিশ সওদাগর (অ্যানি), সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাদী হাসান জুয়েল, লাইব্রেরি সম্পাদক খন্দকার মাকসুদুল হাসান (সবুজ), সাংস্কৃতিক সম্পাদক মারজিয়া হীরা, অফিস সম্পাদক মো. আফজাল হোসেন মৃধা, ক্রীড়া সম্পাদক মো. সোহেল খান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক এ.এস.এম ফিরোজ এবং তথ্য ও যোগাযোগ সম্পাদক পদে শফিকুল ইসলাম (শফিক)। সদস্য পদে এই প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এ.এইচ.এম রেজওয়ানুল সাঈদ (রোমিও), ফারজানা ইয়াসমিন, মো. আদনান রহমান, মো. নিজাম উদ্দিন, মো. নজরুল ইসলাম (মামুন), মো. সানাউল, মামুন মিয়া, মুজাহিদুল ইসলাম (সায়েম), শেখ শওকত হোসেন এবং সৈয়দ সারোয়ার আলম (নিশান)।

 

অপরদিকে জামায়াত-এনসিপি সমর্থিত সবুজ প্যানেল থেকে সভাপতি পদে এস. এম. কামাল উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আবু বাক্কার সিদ্দিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই প্যানেলের অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. শাহিদুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান (আজাদ), কোষাধ্যক্ষ মো. আজমত হোসেন, সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. শাহীন আক্তার, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান ভূঁইয়া, লাইব্রেরি সম্পাদক মো. শাহাদাত হোসেন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার, অফিস সম্পাদক মো. আবদুর রাজ্জাক, ক্রীড়া সম্পাদক বাবুল আক্তার (বাবু), সমাজকল্যাণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান মোল্লা এবং তথ্য ও যোগাযোগ সম্পাদক পদে মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ। সদস্য পদে এই প্যানেলের প্রার্থীরা হলেন বেলাল হোসেন, দিলরুবা আক্তার (সুবর্ণা), জহিরুল ইসলাম, কাওসার আহমেদ, মো. কাইয়ুম হোসেন (নয়ন), মো. মহসিন (রেজা), মো. ওমর ফারুক, মো. শাহ আলম, মো. ইউনুস এবং মোশাররফ হোসেন।

 

এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে সভাপতি পদে মোহাম্মদ ইউনুস আলী বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক পদে বলাই চন্দ্র দেব ও মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ, কোষাধ্যক্ষ পদে রফিকুল ইসলাম, সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে দেওয়ান আবুল হোসেন এবং সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে ওলিদা বেগমসহ মোট ৯ জন বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

 

নির্বাচন কমিশনের ঘোষণায় জানানো হয়েছে, আগামী ২৯ ও ৩০ এপ্রিল সকাল থেকে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। পাশাপাশি সদস্য পদের ব্যালটে ১০টির কম বা বেশি ভোট প্রদান করলে সেই ভোট বাতিল বলে গণ্য হবে।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।