Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
জেলার খবর

জামালপুরে যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা সহ জমি দখলের অভিযোগ

admin • 05 Jul 2023, 10:01 PM • পঠিত 0 বার
শেয়ার করুন:
জামালপুরে যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা সহ জমি দখলের অভিযোগ

জামালপুরের ইসলামপুরে এক যুবলীগের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, ব্যবসা ও জমি দখলসহ নানান অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ওই যুবলীগ নেতা মো. আরিফুল ইসলাম আরিফ বর্তমান ইসলামপুর উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। সে উপজেলার কিংজাল্লা এলাকার ইব্রাহিম সরকারের ছেলে।

তিনি আগামী ৮ জুলাই ইসলামপুর উপজেলা যুবলীগের অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্রার্থী হওয়ার কথা রয়েছে। ওই সম্মেলনে সভাপতি পদে ৯ ও সাধারণ সম্পাদক পদে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন বলে জানা গেছে।

ওই সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে প্রচার প্রচারনা শুরু করা যুবলীগ নেতার আরিফুল ইসলাম আরিফ বিরুদ্ধে নিয়মিত মাদক সেবন ও ব্যবসা, চাঁদাবাজি, সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি দখলের অভিযোগ রয়েছে। তার নামে একটি মাদকের মামলাও রয়েছে।

এছাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অসদারণের অভিযোগও রয়েছে। এদিকে সম্মেলনের মাধ্যমে সস্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত যুবলীগ চাই উপজেলার সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা।

অভিযুক্ত ওই যুবলীগ নেতার চাচা উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আঃ লতিফ সরকার। চাচার মদদে আরিফ পুরো উপজেলায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। তাঁর এমন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে কেউ বাঁধা হয়ে দাঁড়ালে তাঁকে পঙ্গুত্ববরণও করতে হয়। তেমনই একজন রবিউল ইসলাম রবি।

আরিফের সশস্ত্র হামলায় দীর্ঘ আড়াই বছর চিকিৎসাধীন অবস্থায় শয্যাশয়ী ছিলেন রবিউল ইসলাম। রবিউল ইসলাম রবি ইসলামপুর পৌর শহরে বাসিন্দা। তিনি ঢাকায় কনস্ট্রাকশনের ব্যবসা করেন।

যুবলীগ নেতা আরিফের সস্ত্রাসী কর্মকান্ড নিয়ে তিনি বলেন,‘২০১৮ সালের ২ মার্চ সন্ধ্যার দিকে সশস্ত্র অবস্থায় আরিফের নেতৃত্বে একদল চিহৃিত সস্ত্রাসী আমার ওপর হামলা চালায়। আমার দুই পা ও হাত একদম ভেঙে টুকরো-টুকরো করে দিয়েছিল। আমাকে নিমর্মভাবে মারা হয়েছিল। আমার মারা যাওয়ারই কথা ছিল। শুধু আল্লাহ নিজে আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। আমি আড়াই বছর চিকিৎসাধীন অবস্থায় শয্যাশায়ী ছিলাম। এখনো আমি স্বাভাবিক হতে পারেনি।

 

আমার অপরাধ ছিল আরিফ তাঁর এক আত্মীয়ের পক্ষে স্থানীয় একটি নির্বাচনে প্রকাশ্যে সীল মেরে ভোট নিচ্ছিল। আমি শুধুমাত্র প্রকাশ্যে সীল মারতে আরিফকে নিষেধ করেছিলাম। সেই অপরাধে আরিফের নেতৃত্বে আমাকে নির্মমভাবে সশস্ত্র হামলা করা হয়েছিল। ফলে আড়াই বছর পঙ্গুত্ববরণ পরিণতি ভোগ করতে হয় আমাকে। এখনও মামলা চলমান রয়েছে।

 

এদিকে ২০১৬ সালের মে মাসে ইসলামপুর শহরের রেলগেইট এলাকায় দিলিপ নামের এক সংখ্যালঘু পরিবারের জমি জোরপূর্বক দখল করে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে আরিফের বিরুদ্ধে।

এ নিয়ে ভুক্তভোগী দিলিপ বলেন,‘আরিফ তাঁর লোকজন নিয়ে হঠাৎ করে, আমার প্রায় দেড় শতাংশ জমি দখল করে নেন। জমিটার মধ্যে দোকান ছিল। সেই দোকান একজনকে দিয়ে আরিফ ভাড়া নিচ্ছেন। আরিফের ক্ষমতার জোরে আমাকে আইনগত ব্যবস্থাও নিতে নেয়নি। এখন আমি মানবেতর জীবনযাপন করছি।’

 

আরিফের বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও ব্যবসার অভিযোগ করেন উপজেলার অনেকেই। তার সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে খুঁজে পাওয়া যায় আরিফের বিরুদ্ধে একটি মাদকের মামলা। মামলার এজাহার উল্লেখ্য করা হয়েছে, ২০১৮ সালের ১৯ জুন ইসলামপুর কলেজের পুরাতন ভবনের পূর্বপাশে ইসলামপুর থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা মো.আরিফুল ইসলাম আরিফসহ তিনজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেন। তাঁদের কাছ থেকে বিক্রির উদ্দেশ্যে ১৫ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে, আরিফুল ইসলাম আরিফকে প্রধান আসামি করে, একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আরিফ আটদিন কারাগারেও ছিলেন। মামলাটি এখনো চলমান রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন যুবলীগের নেতা জানিয়েছেন, তিনি একজন নিয়মিত মাদক সেবনকারী। শুধু তাই নয় তাঁর নেতৃত্বে উপজেলায় মাদক ব্যবসা পরিচালিত হয়। তার কারণে অনেক তরুণ যুবক নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। তার মদদে দলের মধ্যে অনেক নেতাকর্মী মাদক সেবী হচ্ছেন। আর এই ধরণের একজন মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীর হাতে কখনো উপজেলা যুবলীগের নেতৃত্ব সুস্থ ধারায় চলতে পারে না। আরিফ উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলে পুরো উপজেলায় মাদকের রাজত্ব শুরু হয়ে যাবে। ফলে সবার দাবি একটাই মাদকমুক্ত নতুন একটা যুবলীগের নেতৃত্ব।

এখানেই অভিযোগের শেষ নয়। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারির ঘটনা। তখন আরিফ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় আরিফ ও তাঁর সহযোগীরা উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালেয় ঢোকে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগ রয়েছে। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি জেলা ছাত্রলীগ আরিফের নেতৃত্বে পরিচালিত উপজেলা ছাত্রলীগের পুরো কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে।

এ বিষয়ে জামালপুর জেলা যুবলীগের সভাপতি রাজন সাহা রাজু বলেন,‘এই ধরণের অভিযোগ কোন প্রার্থীর বিরুদ্ধে থাকলে, কোনভাবেই সাংগঠনিক দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে এই বিষয়ে আমাদের কাছে কোন অভিযোগ আসে নাই। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’

এ বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আরিফুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, আমি রাজনীতি করি এই মামলা ষড়যন্ত্র মূলক ও ভিত্তীহীন।

উল্লেখ্য, আগামী ৮ জুলাই ইসলামপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো.মাইনুল হোসেন খান নিখিল উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এছাড়াও জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।