দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা জীবনে কলম আর সংবাদকে সঙ্গী করে মানুষের কথা তুলে ধরতেন ওসমান হারুনী। অথচ হঠাৎ করেই থেমে গেল তার জীবনের পথচলা। সংবাদ সংগ্রহ করা ওসমান হারুনী আজ নিজেই সংবাদের শিরোনাম।
জামালপুরের ইসলামপুরে মোহনা টিভির জেলা প্রতিনিধি ও দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ইসলামপুর প্রতিনিধি সাংবাদিক ওসমান হারুনীর (৪২) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পৌরসভার পলাবান্দা ভাটিপাড়ায় তার নিজ বাড়ির টিনসেট ঘর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। হঠাৎ মৃত্যুর ঘটনায় স্তব্ধ সাংবাদিক মহল স্থানীয় সাংবাদিক সমাজসহ এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
স্বজনরা জানান, দুপুর ১টার দিকে তিনি মূল ঘর থেকে পাশের একটি টিনসেড ঘরে যান। সেখানেই তিনি সংবাদ পাঠানোর জন্য সব সময় কাটাতেন। কিছুক্ষণ পর নিহতের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ওই ঘরে গেলে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তার চিৎকারে নিহতের স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান সদস্যরা ছুটে গিয়ে মরদেহ নামিয়ে ফেলে। এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে থানা পুলিশ ও স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে যান।
স্ত্রী খাদিজা বেগম জানান, গত দুই মাস ধরে তিনি ঘরেই থাকতেন। মান-অভিমানে আমাদের কথাবার্তাও কমে গিয়েছিল। টেলিভিশন থেকে নিয়মিত কোনো বেতন পেতেন না। সামান্য সম্মানী দিয়েই সংসার চলত।
বাড়ি নির্মাণে দেড় লাখ টাকা ঋণ করেছিলেন। অসুস্থ শরীরের কারণে আরেকটি অপারেশনও প্রয়োজন ছিল। এসব নিয়ে তিনি ভীষণ চিন্তিত ছিলেন। আসলে কি কারনে যে এমন করলো নিজেই বুঝতেছিনা।
ওসমান হারুনী রেখে গেছেন দুই ছেলে। অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ইয়ামিন ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ইয়াকিনকে। বাবাহারা এই দুই কিশোরের শোকে পুরো পরিবার ভেঙে পড়েছে।
ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ. স. ম. আতিকুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে এটি আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। তিনি অসুস্থ ছিলেন এবং পারিবারিক অশান্তিও ছিল। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে, তদন্ত চলছে।





