জামালপুরে জাতীয় বিশ্বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা ও পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কারে ১৭ দফা দাবীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ( ৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ ক্যাম্পাসে জাতীয় বিশ্বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা এই মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে।
ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধনে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. হারুন অর রশিদ, শিক্ষার্থী আফরিন জান্নাত আখি,আল আমিন রুহানী, রুমানা আক্তার তৃণা, রবিন, শহিদ চৌধুরীসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।
এ সময় বক্তারা বলেন, লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠান জাতীয় বিশ্বিদ্যালয়ের সংস্কার করে শিক্ষাবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সেশন জট কমানো, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোর্স শেষ করা ও পরীক্ষা গ্রহণ, যুগোপযোগী সিলেবাস প্রণয়ন, ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি বন্ধ করা, প্রত্যেক বছর ভাইবার ব্যবস্থা করা এবং ভাইভার উপর ভিত্তি করে ইনকোর্স নাম্বার প্রদান, শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা বৃদ্ধি করা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উপস্থিতি নিশ্চিত করা, সিট কমিয়ে ভর্তি পরীক্ষা চালু ও সমাবর্তন অনুষ্ঠান আয়োজন, বিভিন্ন ধরনের বৃত্তির ব্যবস্থা ও ক্যাম্পাসে অযাচিত অনুষ্ঠান বন্ধ করা, সকল ফি ও জরিমানা কমানো, আবাসন ও পরিবহন ব্যবস্থা, ক্যাম্পাসে ছাত্রদের জন্য সাংবাদিক পরিষদ চালু, উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি বন্ধসহ ১৭ দফা দাবী তুলে ধরে তা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য দাবী জানান বক্তারা। মানববন্ধনে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের শিক্ষক ও কলেজে অধ্যয়নরত জাতীয় বিশ্বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
শিক্ষার্থীদের ১৭ দফা দাবি নিম্নে তুলে ধরা হলো:
১। ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির ব্যবস্থা করতে হবে। একই সাথে জিপিএ নির্ভর ভর্তি প্রক্রিয়া বাতিল করতে হবে। ভর্তির ক্ষেত্রে আমরা কোন বৈষম্য চাই না। যারা কারিগরি কলেজ থেকে জিপিএ ৫ পেয়ে এইচ.এস.সি পাশ করে তারাই বেশির ভাগ সিট পেয়ে যায়। কিন্তু জেনারেল শাখা থেকে পাশ করা শিক্ষার্থীদের কম জিপিএ পাওয়ার কারনে সিট পায় না। কারন জেনারেল শাখায় প্র্যাক্টিক্যাল নাম্বারের সুযোগ নেই।
২। সেশন জট কমাতে হবে। চার বছরের অনার্স কোর্স ৪ বছরেই শেষ করতে হবে। এজন্য যথা সময়ে পরীক্ষা নিতে হবে। উত্তরপত্র মূল্যায়ন যথাযথ ও নিরীক্ষা কার্যক্রম সঠিক হওয়া দরকার।
৩। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে অনার্স- মাস্টার্স এর সনদের দোকান না ভেবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বানাতে হবে। সনদ ফি বাতিল করতে হবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এর শিক্ষা ব্যবস্থার মান উন্নয়ন করতে হবে যেখানে শিক্ষার্থীরা সনদের জন্য আসবে না বরং পড়াশোনা করতে আসবে।
৪। কথা বলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের জড়তা থেকে বেরিয়ে আসতে পারে, যার জন্য প্রেজেন্টশন ক্লাস এর প্রয়োজন। চলমান পদ্ধতিতে আমাদের ৪ বছরের অনার্স কোর্স ৬ বছরে শেষ করার পরও একটি প্রেজেন্টশন ক্লাসও হয় না। যেখানে দেশের শিক্ষার্থীদের বড় একটা অংশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। তবে কেন তাদের প্রতি এই অবহেলা?
৫। পর্যাপ্ত সংখ্যক ক্লাস রুমের ব্যবস্থা করতে হবে, পর্যাপ্ত পরিমাণের ক্লাসের ব্যবস্থা করতে হবে এবং শিক্ষক বৃদ্ধি করতে হবে। শিক্ষকের স্বল্পতা থাকা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের আসন বৃদ্ধি না করা, প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমিয়ে আনতে হবে এবং শিক্ষদের ক্লাসের প্রতি যত্নশীল হতে হবে। সেই সাথে ক্লাসে ৭৫% উপস্থিতি না থাকলে পরীক্ষায় বসতে না দেওয়া। বিজ্ঞান বিভাগের ব্যবহারিক ক্লাস রুটিন অনুযায়ী হতে হবে এবং গবেষণার ক্ষেত্রেও সুযোগ তৈরী করতে হবে।
৬। যুগোপযোগী সিলেবাস নির্ধারণ করতে হবে যা আমাদের কর্ম জীবনে সুফল বয়ে আনবে। কর্ম জীবনে এবং রাষ্ট্রের কাজে সরাসরি দরকার হয় এমন বিষয় দিয়ে সিলেবাস সাজাতে হবে।
৭। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গতানুগতিক প্রশ্নের ধারা পরিবর্তন করতে হবে। মান সম্মত প্রশ্ন প্রণয়ন করতে হবে। বিগত বছরের দুর্বল প্রশ্ন প্রণেতাদের শনাক্ত করে প্রশ্ন প্রণেতাগণকে বিরত রাখতে হবে।
৮। ইনকোর্স পরীক্ষার ক্ষেত্রে সচেতন হতে হবে এবং প্রতি দুই বছর পর পর ভাইবা পরীক্ষা নিতে হবে। যে শিক্ষর্থী ইনকোর্স পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করবে তাদের চূড়ান্ত পরীক্ষায় বসতে না দেওয়া।
৯। মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তির ব্যবস্থা করতে হবে এবং গরিব ও অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির ব্যাবস্থা করতে হবে।
১০। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা সকল কলেজের বিষয়ভিত্তিক সকল ফি সারা বাংলাদেশের কলেজগুলোতে একই হতে হবে। যেকোনো ধরনের ফি, ভাইবা ফি, টার্ম পেপার ফি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এর নোটিশ আকারে নির্ধারণ করতে হবে। জরিমানা বন্ধ করতে হবে।
১১.জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন শিক্ষকদের নিয়মিত ও পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
১২। শিক্ষার্থী সাংবাদিক পরিষদ চালু করতে হবে।
১৩। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত সমাবর্তন অনুষ্ঠান করতে হবে।
১৪। ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠের অংশে সাম্প্রতিক গণ অভ্যুত্থানকে যুক্ত করতে হবে।
১৫। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পৃষ্ঠপোষকতায় ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড জোরদার করতে হবে।
১৬। রাষ্ট্র বিনির্মাণের দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক তৈরিতে যে সকল ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সেসব ব্যবস্থা বৈশ্বিক শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে তাল মিলিয়ে সমন্বয় করতে হবে।
১৭। যত্রতত্র মানহীন কলেজে রাজনৈতিক বিবেচনায় অনার্স/মাস্টার্স কোর্স চালু করা যাবে না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্বৃত্ত অলস অর্থ শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনে ব্যয় করতে হবে এই অর্থ থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগকৃত শিক্ষকের বেতন প্রদান, শ্রেণিকক্ষের জন্য ভবন নির্মাণ, বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত ল্যাবরেটরি নির্মাণ, শিক্ষার্থীদের স্বল্পমূল্যে শিক্ষা-ডিভাইস প্রদান করতে হবে।





