Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
এক্সক্লসিভ

জকসু নির্বাচনে শিবিরের দাপটেও ছাত্রদলের সাদমান সাম্যর চমকপ্রদ জয়

Inam Ahsan • 10 Jan 2026, 09:01 PM • পঠিত 0 বার
শেয়ার করুন:
জকসু নির্বাচনে শিবিরের দাপটেও ছাত্রদলের সাদমান সাম্যর চমকপ্রদ জয়
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে চমকপ্রদ ফলাফল এনে দিয়েছেন ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের একমাত্র কার্যনির্বাহী সদস্য পদে বিজয়ী মো. সাদমান আমিন (সাদমান সাম্য)। ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের ভূমিধস বিজয়ের মধ্যেও ছাত্রদলের এই নেতার জয় ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জকসু নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে সাদমান সাম্য ৩ হাজার ৩০৭ ভোট পেয়ে পঞ্চম সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। মোট ৩৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩টি কেন্দ্রে তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেন। এছাড়া ২৪টি কেন্দ্রে তিনি সেরা সাতের মধ্যে অবস্থান করে শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করেন।সাদমান সাম্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের বিগত কমিটির ১ নম্বর সদস্য ছিলেন। দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, রাজপথের লড়াকু ও দুঃসময়ের কর্মী হিসেবে তার প্রতি সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।নির্বাচন-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, সাদমান সাম্য একজন সদাহাস্যোজ্জ্বল ছাত্রনেতা হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত। শিক্ষার্থীদের যেকোনো বিপদে-আপদে তিনি সবসময় পাশে থাকেন, যা নির্বাচনে তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার প্রতিফলন ঘটিয়েছে।শিক্ষার্থীদের মতে, তিনি নিজেকে প্রথাগত ছাত্রনেতা হিসেবে উপস্থাপন না করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে ‘সহজেই পাওয়া যায় এমন বড় ভাই ও বন্ধুর’ জায়গা তৈরি করেছেন। নতুন শিক্ষার্থীদের ভর্তি-সহায়তা থেকে শুরু করে অসুস্থতায় পাশে দাঁড়ানো—এমন মানবিক কাজগুলো তাকে ভোটারদের হৃদয়ে জায়গা করে দিয়েছে। দলীয় পরিচয়ের বাইরে তিনি সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি ‘কমন গ্রাউন্ড’ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।এছাড়া তিনি চরমপন্থী বা আক্রমণাত্মক অবস্থানের বদলে সহাবস্থান ও অধিকারের রাজনীতিকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা সাধারণত উগ্রপন্থার রাজনীতি থেকে বিমুখ এবং কল্যাণমুখী রাজনীতিকে বেশি পছন্দ করেন। ফলে তার মার্জিত আচরণ ও যুক্তিনির্ভর বক্তব্য নিরপেক্ষ ভোটারদের অধিক ভোট টানতে সক্ষম হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।নিজের বিজয় প্রসঙ্গে সাদমান আমিন বলেন,“এই জয় আমার একার নয়, এটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের জয়। ছাত্রদলের একজন প্রতিনিধি হিসেবে আমি সংসদে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। আমার প্রথম ও প্রধান কাজ হবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা এবং ক্যাম্পাসে ভয়ের সংস্কৃতির বদলে অধিকারের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা।”
তিনি আরও বলেন,“দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে আমি সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অতীতের মতো সুসম্পর্ক বজায় রাখব এবং তাদের বিপদে-আপদে সর্বদা পাশে থাকবো, ইনশাআল্লাহ। সকল ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করা এবং ক্যাম্পাসে সুস্থ ধারার ছাত্র রাজনীতি বজায় রাখতে কাজ করবো।”এছাড়া আবাসন, পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, ক্যান্টিনের খাবারের মান বৃদ্ধি ও সহনীয় মূল্য নির্ধারণসহ প্যানেলের পূর্ণাঙ্গ ইশতেহার বাস্তবায়নে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলে জানান।উল্লেখ্য, এবারের জকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল অধিকাংশ পদে নিরঙ্কুশ জয় পেলেও কার্যনির্বাহী সদস্য পদে সাদমান সাম্যর এই জয়কে ছাত্রদলের জন্য বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।