Friday, 6 November 2026
শিরোনাম
১০০ টাকা চাওয়ায় মায়ের বকুনি, পরে মিলল পিংকির নিথর দেহ বিনামূল্যে ওমরাহর সুযোগ দিচ্ছে সৌদি আরব, আবেদন করবেন যেভাবে থ্রিডি ম্যাপে ট্রেনের লাইভ অবস্থান দেখাচ্ছে ‘ট্রেন কোথায়’, যেভাবে দেখবেন আপনাদের পয়সা না দিলে শ্রমিকদের ৩০ না ৪০ হাজার টাকা বেতন দিতে পারতাম দুই ধাপে মিলবে ড্রাইভিং লাইসেন্স, আবেদনের নিয়ম ও ফি জানাল বিআরটিএ এবার দেবীগঞ্জে স্কুল ফিডিংয়ের রুটিতে মিলল ধারালো ব্লেড! মক্কেলের টাকার বিবেচনায় নয়, আইনজীবী হিসেবেই আদালতে দাঁড়াতে হবে: আইনমন্ত্রী ‘দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে জান্নাত’ বলা সেই হাফিজ এখন জেলা জামায়াতের আমির এপেক্স ক্লাব অব ঢাকা মিডটাউনের প্রেসিডেন্ট রিফাত-সেক্রেটারি সেলিম ঢাবি শিক্ষার্থীকে ১ টাকা জরিমানা, জমা দিতে যেতে হয় ব্যাংকে
এক্সক্লসিভ

কুষ্টিয়ায় চোখ রাঙাচ্ছে হাম, ২৪ ঘণ্টায় ৩ শিশুর মৃত্যু

• • পঠিত 10 বার
শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ায় চোখ রাঙাচ্ছে হাম, ২৪ ঘণ্টায় ৩ শিশুর মৃত্যু

কুষ্টিয়ায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের সংক্রমণ। এই জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৩ শিশুর। সেইসঙ্গে জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১৩১ শিশু। আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতালে দেখা দিয়েছে শয্যা সংকট।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ভাদালিয়া গ্রামের বাসিন্দা আল আমিনের ৮ মাস বয়সী ছেলে আফরান। এরপর দিবাগত রাত ১২টার দিকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হয় সাড়ে ৫ মাস বয়সী শিশু আইজারের। সে শহরের রেনউইক মোড় এলাকার বাসিন্দা মমিনের মেয়ে।

এর আগে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে মারা যায় দৌলতপুর উপজেলার চঞ্চল হোসেনের ৮ মাস বয়সী ছেলে ইব্রাহিম।  এ নিয়ে জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হলো ৪ শিশুর।  

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম জানান, আগে থেকেই আশঙ্কাজনক অবস্থা ছিল মারা যাওয়ার শিশুদের। রোগীদের জন্য খোলা হয়েছে আলাদা ‘হাম কর্নার’। কিন্তু রোগীর চাপ এতটাই বেশি যে, অনেক শিশুকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে মেঝেতে রেখেই।

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. হোসেন ইমাম জানান, ‘শুক্রবার বিকেলে ভর্তি হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শিশু ইব্রাহিমের মৃত্যু হয়। সামান্য ঠান্ডা-কাশি বা জ্বরকে অবহেলা না করে দ্রুত হাসপাতালে আনার পরামর্শ দিচ্ছি আমরা।’

অভিভাবকদের পরামর্শ দিয়ে তিনি আরও জানালেন, দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে শিশুর জ্বর, সর্দি ও কাশি দেখা দিলেই। হাম আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখতে হবে সুস্থ শিশুদের থেকে। না হলে সংক্রমণ অন্যদের মধ্যেও ছড়াতে পারে। সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে এবং শিশুদেরকে প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার ও ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়াতে হবে।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ মাসে জেলায় তিন শতাধিক রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১৩১ জন। তাদের মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় ১১ জনের শরীরে হামের ভাইরাসের উপস্থিতি মিলেছে, যার মধ্যে দৌলতপুরে ৬ জন এবং কুমারখালীতে ৫ জন।

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানালেন, বাইরের জেলা থেকে আসা মানুষদের মাধ্যমে এবং জনসচেতনতার অভাবে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। প্রতিটি হাসপাতালে ‘হাম আইসোলেশন কর্নার’ খুলে নিবিড় সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।