Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
এক্সক্লসিভ

এমপি আনার হত্যা: এবার মোস্তাফিজের দায় স্বীকার

admin • 02 Jul 2024, 09:33 PM • পঠিত 0 বার
শেয়ার করুন:
এমপি আনার হত্যা: এবার মোস্তাফিজের দায় স্বীকার

এমপি আনোয়ারুল আজীম আনারকে হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণ মামলার আসামি মোস্তাফিজুর রহমান ফকির আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মঙ্গলবার ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. তোফাজ্জল হোসেনের আদালতে জবানবন্দি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

আসামি মোস্তাফিজ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় সেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহকারী কমিশনার মাহফুজুর রহমান তার জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন।

গত ২৭ জুন আসামি মোস্তাফিজ ও ফয়সাল আলী শাজীর ছয়দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। আসামি ফয়সাল আলী শাজী বর্তমানে রিমান্ডে রয়েছেন। এর আগে, ২৬ জুন খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম থেকে মোস্তাফিজুর ও ফয়সালকে গ্রেফতার করে ডিবির একাধিক টিম।

মোস্তাফিজের দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি বলেন, মোস্তাফিজ ও ফয়সালকে বড় অংকের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে আনার হত্যার মিশনে যোগ দেওয়ার জন্য ভারতের কলকাতায় যেতে বলে শিমুল ভুইয়া। এ কাজে পাসপোর্ট, ভিসা, টিকিটসহ সবকিছু শিমুল ভুইয়া করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

জানা গেছে, মোস্তাফিজ খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলার যুগ্মীপাশা গ্রামের মো. ইমান আলী ফকিরের ছেলে। তার দেওয়া জবানবন্দি সূত্রে জানা যায়, মোস্তাফিজ ও ফয়সালের ভিসার জন্য আনার হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী আক্তারুজ্জামান শাহীন ব্যাংক স্টেটমেন্ট তৈরি, রোগের প্রেসক্রিপশনসহ আনুসঙ্গিক কাজের জন্য প্রচুর টাকা খরচ করেন। ফলে দ্রুতই মোস্তাফিজ ও ফয়সাল ভারতীয় চিকিৎসা ভিসা পেয়ে যায়।

জবানবন্দি সূত্রে আরো জানা যায়, মোস্তাফিজ ও ফয়সাল আনুমানিক ১৫ এপ্রিল খুলনা থেকে ঢাকায় এসে আনার হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী আক্তারুজ্জামান শাহীনের বসুন্ধরার এল ব্লকের ৩২ নম্বর রোডের ১৯২৯ নং বাসায় ওঠেন। পরদিন শাহীনের পিএস পরিচয়ধারী সিয়াম হোসেন নামে এক লোক ঐ বাসায় এসে শাহীনের নির্দেশ মোতাবেক দুজনকে (মোস্তাফিজ ও ফয়সাল) ভারতীয় ভিসার জন্য যমুনা ফিউচার পার্কের কাছে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে নিয়ে যান। এ সময় সিয়াম আসামি মোস্তাফিজ ও ফয়সালকে বলে- শাহীন স্যারই আপনাদের পাসপোর্টের জন্য টাকা দিয়েছিলেন, তিনিই আপনাদের দ্রুত ভিসা করে দেবেন। আনুমানিক ১৫-২৪ এপ্রিল মোস্তাফিজ ও ফয়সাল পরিকল্পনাকারী আক্তারুজ্জামান শাহীনের তত্ত্বাবধানে বসুন্ধরার বাসায় ছিলেন। ইতোমধ্যে মোস্তাফিজ ও ফয়সাল ভারতীয় চিকিৎসা ভিসা পেয়ে আনুমানিক ২৫ এপ্রিল ঢাকা থেকে খুলনায় ফিরে যান।

এরপর ঘাতক শিমুল ভুইয়া ও আক্তারুজ্জামান শাহীনের পরিকল্পনা মোতাবেক মোস্তাফিজ ও ফয়সাল ২ মে ভারতের কলকাতায় যান এবং নিউমার্কেট এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থান করতে থাকেন। পরিকল্পনা মোতাবেক মোস্তাফিজুর রহমান ফকির ১০ মে কলকাতার নিউটাউনস্থ সঞ্জিভা গার্ডেন্স নামক বাসায় যান। শাহীনের পরিকল্পনায় এমপি আনার ঐ বাসায় গেলে ঘাতক দলের প্রধান শিমুল ভুইয়ার নেতৃত্বে জিহাদ, ফয়সাল, মোস্তাফিজসহ অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজন ভিকটিম আনারকে অজ্ঞান করে হত্যা করে। এরপর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে মৃতদেহ থেকে হাড় ও মাংস আলাদা করে নিশ্চিহ্ন করে ফেলে।

ঘাতক মোস্তাফিজ ও ফয়সাল হত্যার মিশন শেষ করে ১৯ মে কলকাতা থেকে বাংলাদেশে ফিরে আসেন এবং হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী আক্তারুজ্জামান শাহীনের বসুন্ধরার বাসায় ওঠেন। এরপর এমপি আনারের মেয়ে ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করলে মূল ঘাতক শিমুল ভুইয়া গ্রেফতার হন। এতে পুলিশের তৎপরতা টের পেয়ে মোস্তাফিজ ও ফয়সাল বসুন্ধরায় শাহীনের বাসা থেকে পালিয়ে আত্মগোপন করেন। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ২৬ জুন মোস্তাফিজ ও ফয়সালকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন ৬ দিনের রিমান্ডে নিলে হত্যায় জড়িত থাকার কথা তারা স্বীকার করেন।

গত ১২ মে আনোয়ারুল আজিমের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস শেরেবাংলা নগর থানায় এ মামলা করেন। মামলায় শিমুল ভুইঁয়া ওরফে শিহাব ওরফে ফজল মোহাম্মদ ভুইয়া ওরফে আমানুল্যাহ সাঈদ, তানভীর ভুইয়া, শিলাস্তা রহমান ও কাজী কামাল আহমেদ বাবু আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছেন। এছাড়া মামলায় দায় স্বীকার না করায় ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টুকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।