Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
জেলার খবর

উৎসবমুখর পরিবেশে আশেক মাহমুদ কলেজে পিঠা উৎসব

admin • 31 Jan 2024, 12:18 AM • পঠিত 0 বার
শেয়ার করুন:
উৎসবমুখর পরিবেশে আশেক মাহমুদ কলেজে পিঠা উৎসব
সাকিব আল হাসান নাহিদ, জামালপুর

সকাল আটটা। চারদিকে ঘন কুয়াশা। এরই মাঝে সব কিছু উপেক্ষা করে মানুষ আসতে শুরু করেছে ক্যাম্পাসে, যেখানে সাজানো হয়েছে পিঠা উৎসবের স্টল। স্টলের টেবিলে সারি সারি বাহারি রঙের পিঠা। এ আয়োজন সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের পিঠা উৎসবের।  মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) বাংলা বিভাগের আয়োজনে কলেজ অডিটোরিয়াম মাঠে শুরু হয়ে পিঠা উৎসব চলে বিকাল ৫টা পর্যন্ত।

শিক্ষার্থীদের তৈরি প্রায় ২৫ রকমের বাহারি পিঠা দিয়ে দুইটি স্টল সাজানো হয়েছিলো। সকাল নয়টায় সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ হারুন অর রশিদ ও উপাধ্যক্ষ প্রফেসর খেলনা রাণী দেব ফিতা কেটে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর এ. কে. এম ফজলুল হক , রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আজাদ খান , ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মোঃ আব্দুল হামিদ ও বাংলা বিভাগের প্রফেসর মোঃ আব্দুল হাই আলহাদী।

চারদিকে উৎসবমুখর পরিবেশ। স্টলে স্টলে সারি সারি পিঠার মনোমুগ্ধকর প্রদর্শন। কেউ বানিয়েছেন দুধপুলি,পুলি,সেমাই,জামাইপিঠা, পাটিসাপটা,চিতই, মোরগ সংশয়, কমলা সুন্দরী, ঝিনুক, ডিমপিঠা, নকশী পিঠাসহ নানা নামের ও রংয়ের মুখরোচক পিঠার স্বাদ নিতে সকাল থেকেই উৎসবে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা সহ মানুষজন স্টলগুলোতে ভিড় করতে থাকে। স্বাদ নিতে স্টলের সামনে দাঁড়িয়েই পিঠা খাওয়ার ধুম পড়ে যায়। কলেজের বিভিন্ন বিভাগের প্রধানসহ সংশ্লিষ্টরা উৎসব উপভোগ করেন।

দুপুর ২টা অব্দি এ পিঠা প্রদর্শনী চলে। এরপর শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কলেজ অডিটোরিয়ামে শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও রম্য বিতর্ক (পিঠার রাজ্যে কোনটি সেরা) বিতর্কে চিতই পিঠা নিয়ে প্রথম হয় কৌশিক, তেলের পিঠা নিয়ে তুহিন দ্বিতীয় ও গড়গড়ি পিঠা নিয়ে তৃতীয় হয় আঁখি। এরপর মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আয়োজনের সমাপ্তি হয়। এসময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাংলা বিভাগের শিক্ষক সেলিনা দিল আফরোজও সঙ্গীত পরিবেশন করেন।

পিঠা উৎসবে আগত অতিথিরা বলেন, হারিয়ে যাওয়া গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য তুলে ধরে নতুন প্রজন্মের সাথে পরিচিতি ঘটাতে এ ধরনের উৎসবের আয়োজন খুব প্রয়োজন। যা বালুগ্রাম আদর্শ কলেজ উদ্যোগ নিয়েছে।অবশ্যই এ ধরনের ঐতিহ্যবাহী আয়োজন প্রশংসার দাবিদার।

কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আফরিন জান্নাত আখি বলেন, পিঠা উৎসব ছিলো আমাদের একটা চ্যালেঞ্জ যা আমরা সফলভাবে করতে পেরেছি এজন্য ভালো লাগছে। উৎসবমুখর পরিবেশে দিনটি খুব ভালো কেটেছে আমাদের।

আরেক শিক্ষার্থী জান্নাতুল ইসরাত তিথি বলেন, ‘প্রায় ২৮ রকমের পিঠা দিয়ে তারা স্টল সাজিয়েছেন। দুপুর ১২টার মধ্যে অর্ধেকের বেশি পিঠা বিক্রি হয়ে গেছে। সবার সাথে সময়টা বেশ ভালো কেটেছে। আয়োজন ভালোই ছিল। তবে, সেটা সল্প পরিসরে ছিল। পরবর্তীতে সব বিভাগ মিলে করলে আরো ভালো হবে।

রোমানা আক্তার তিনা আরেক শিক্ষার্থী জানান, শিক্ষকদের অনুপ্রেরণা, বিভাগের সকলের সহযোগীতায় ভালো ভাবে সবাই অনেক আনন্দের সাথে পিঠা উৎসবটি সম্পূর্ণ করেছি। পড়াশোনার পাশাপাশি এভাবেই বিভিন্ন আনন্দ উৎসব হোক এটাই আমাদের চাওয়া।

কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক মো: ইমরান হোসেন বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা পরিকল্পিত ভাবনায় ১৮ রকমরে পিঠা প্রদর্শনী করেছিল এককালে যেসব পিঠা আমাদের নানি,দাদি বা মায়েরা বানাতেন পৌষের শীতে, আমাদের শিক্ষার্থীরা সে কাজটি আনন্দের সাথে করে উৎসবমুখর পরিবেশে। দর্শনার্থীরা যেনো উৎসবকে ঘিরে এক অবিরল উচ্ছ্বাসে মিলিত হয়েছিল নানা সাজে সেজে। সাদামাটা হলেও আয়োজন শিক্ষার্থী, শিক্ষক-দর্শনার্থীদের স্মৃতিতাড়িত করেছে তাদের নানা-দাদা বাড়ির কৈশরো ও শৈশবের আনন্দকে।’

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।