ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ক্লাস করতে আসা নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতাকে আটক করেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। রোববার (১২ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মোশাররফ হোসেন ভবনের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটককৃত হুসাইন তুষার বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী। তিনি শাখা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ছিলেন। শাহ আজিজুর রহমান হলের (তৎকালীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল) ২১৩ নম্বর রুমে থাকতেন বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, ঐ ছাত্রলীগ নেতা রোববার মাস্টার্সের ক্লাস করতে আসেন। এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাকে মীর মোশাররফ হোসেন ভবনের সামনে দেখতে পেয়ে ঘিরে ধরেন। পরে তাকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসেন। এরপর তাকে ইবি থানায় সোপর্দ করে ইবি কর্তৃপক্ষ।
শাখা ছাত্রদল নেতা রাফিজ আহমেদ বলেন, এই ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদের হুমকি-ধামকিও দিয়েছে। গণরুমে শিক্ষার্থীদের উপর অত্যাচার করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির তালিকায় ইবি ছাত্রলীগ সভাপতি ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাতসহ অনেকের নামই অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। সাধারণ সম্পাদকের নামে শোকজ নোটিশ জারি থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। যে কারণে ছাত্রলীগ আবার সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। নিয়মিত ফেসবুকে পোস্ট দিচ্ছে। সম্প্রতি ভিসি স্যার নিয়োগ বোর্ডের বিষয়ে বলেছেন—‘আমরা মেধা দেখছি, কারো দলীয় পরিচয় দেখছি না’। তাই প্রশ্ন উঠছে, এই কারণেই কি এখন ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সাহস পাচ্ছে?
আটক হওয়া ছাত্রলীগ নেতা হুসাইন তুষারের ভাষ্য, আমার অনার্স শেষ হয়েছে। আগে পরীক্ষা দিতে এসেছিলাম, তখন কেউ কিছু বলেনি।
প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, তাকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসলে আমরা ইবি থানায় সোপর্দ করেছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, তিনি বর্তমানে আমাদের হেফাজতে আছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।





