দেবীগঞ্জ(পঞ্চগড়) প্রতিনিধি।
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে সাবেক মহিলা ইউপি সদস্যের সাথে পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগে চেয়ারম্যানের পদত্যাগ ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।
রবিবার (২ জুন) বিকাল সাড়ে পাঁচটায় উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়নের লক্ষীরহাট চৌরাস্তায় পামুলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মহিলা ইউপি সদস্য রাশেদা বেগমের সাথে পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগে চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মনি ভূষন রায়ের পদত্যাগ ও শাস্তির দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করে পামুলী ইউনিয়নের প্রায় শতাধিক মানুষ।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে রাশেদা বেগমের সাথে চেয়ারম্যান মনিভূষন রায়ের অনৈতিক সম্পর্ক ছিলো। রাশেদা বেগমের স্বামী কাঠালতলী গ্রামের আবু সাঈদ দীর্ঘ এক বছর বাড়িতে না থাকলেও মনি ভূষন রায়ের সাথে অবৈধ শারীরিক সম্পর্কে জড়ানোর কারনে বর্তমানে রাশেদা ছয় মাসের অন্ত:স্বত্তা বলে অভিযোগ করেন তার স্বামী।পরকীয়ার এই বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে ওই ইউনিয়নের জনগনের মনে ক্ষুব্ধতার সৃষ্টি হয় এবং চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে মানববন্ধন করে এলাকাবাসী।
আরো পড়ুন: ইউপি চেয়ারম্যান ও স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে বাড়ি ছাড়া স্বামী!মানবন্ধনে অংশ নেয়া সেই মহিলা ইউপি সদস্যের স্বামী আবু সাঈদ বলেন, ২০১৭ সালে আমি ওমানে যাই। সেখানে থাকার সময়ে দেশে স্ত্রীর ব্যাংক একাউন্টে টাকা পাঠিয়েছি। পরে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে জানতে পারি চেয়ারম্যান দিনে ও রাতে বিভিন্ন সময়ে সময় কাটাতে আসতেন আমাদের বাসায়। শুধু তাই নয়, স্বামী না থাকার সুযোগে আমার স্ত্রী রাশেদা চেয়ারম্যানের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি জানার পর আমি ২০২১ সালে দেশে ফিরে আসি। দেশে এসে বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থ ও পরকীয়ার সম্পর্কের বিষয়ে স্ত্রী রাশেদাকে প্রশ্ন করলে সে সম্পর্কের বিষয়টি স্বীকার করে ক্ষমা চায়। প্রথমবার শুধরানোর সুযোগ দেই স্ত্রীকে। যদিও চার বছরে বিদেশ থেকে পাঠানো টাকার সঠিক হিসাব দিতে পারেনি। এরপর চাকরির জন্য ঢাকায় চলে যাই। ঢাকায় থাকার সময়ে গত সাত মাস আগে মণি ভূষণ রাশেদাকে নিয়ে ভারতে যান বলে জানতে পারি। বিষয়টি নিয়ে পরে চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলি এবং রাশেদার সঙ্গে সম্পর্ক না রাখার ব্যাপারে অনুরোধ জানাই। এতেও কাজ হয়নি। বরং তাদের পরকীয়ার সম্পর্ক এখনো টিকে আছে।
গত ২০ মে আমি ঢাকা থেকে বাড়িতে এলে আমাকে আর বাড়িতে প্রবেশ করতে দেননি আমার স্ত্রী রাশেদা। উল্টো চেয়ারম্যানকে ফোনে বিষয়টি জানালে চেয়ারম্যান একজন গ্রাম পুলিশকে সেখানে নিযুক্ত করেন। এছাড়া পরকীয়ার সম্পর্কে জড়িয়ে রাশেদা বেগম এখন ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। চেয়ারম্যানের প্ররোচনায় উল্টো আমাকে বাড়িতে প্রবেশ করতে দেয় না। এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে আমাকে এবং যারা আমার স্ত্রী ও চেয়ারম্যান এর পরকীয়া সম্পর্কে বাঁধা প্রদান করেছিলেন তাদের মিথ্যা বানোয়াট মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করতেছে।
মানববন্ধনে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, মাওলানা সালাহউদ্দীন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ফজলে হায়দার প্রধান প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জনপ্রতিনিধি সমাজের দায়িত্বশীল ব্যাক্তি, দায়িত্বশীল ব্যাক্তি যদি নিজেই অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত থাকেন তাহলে এর চেয়ে লজ্জাজনক আর কিছু নেই। অনতিবিলম্বে চেয়ারম্যান মনিভূষন রায় এর অনৈতিক কার্যকলাপের জন্য পদত্যাগ ও শাস্তির দাবি করেন।
এই ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান মণিভূষণ রায়কে বেশ কয়েকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এর আগে গত ২৩ মে ঐ মহিলা ইউপি সদস্যের স্বামী আবু সাঈদ দেবীগঞ্জ থানায় চেয়ারম্যান মনিভূষন রায় ও রাশেদা বেগমের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার ইফতেখারুল মোকাদ্দেম অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে অবহিত করেন।





