Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
জেলার খবর

আসন্ন খাদ্য সংকট মোকাবেলায় শেকৃবি শিক্ষার্থীদের উদ্যোগ

admin • 30 Aug 2024, 12:46 PM • পঠিত 0 বার
শেয়ার করুন:
আসন্ন খাদ্য সংকট মোকাবেলায় শেকৃবি শিক্ষার্থীদের উদ্যোগ

দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে চলমান বন্যায় প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। ক্ষতির মধ্যে পড়েছে জনজীবন, নষ্ট হয়েছে ফসলের ক্ষেত। ফসলের ক্ষেতগুলো পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় খাদ্য সংকটে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। আর এই সংকটকে মোকাবেলা করতে কৃষি এবং কৃষককে বাচাতে ত্রাণ সরবরাহের পাশাপাশি বিনামূল্যে ধানের চারা এবং সবজির বীজ সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের(শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা।

শেকৃবি শিক্ষার্থীদের উদ্যোগকে সফল করতে সাহায্য করছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI) এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (DAE)। ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI) এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (DAE) সহায়তায় বীজ সংগ্রহ ও বিশ্ববিদ্যালের গবেষণা মাঠে ধানের চারা উৎপাদন করার জন্য বীজতলা তৈরীর কাজ পুরোদমে শুরু করে দিয়েছে শেকৃবির শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও পুরাতন বাণিজ্য মেলায় মাঠে ব্যাপক আকারে বিভিন্ন সবজির চারা উৎপাদন করা হবে হবে বলে জানা গেছে।

 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং অন্যতম সমন্বয়ক আল রাকিব বলেন, কৃষি অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। তাই বন্যায় কৃষি সেক্টরের ক্ষতিকে পুষিয়ে নিতে শেকৃবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সম্মিলিতভাবে পদক্ষেপ নিয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা ধান চাষ এবং কিউকারবিট রোপণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এছাড়াও বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এর সহায়তায় বন্যাকবলিত এলাকার জন্য উপযোগী ধান ব্রি-২৩, ব্রি-৭৫ এবং বিনা-১৭ ভ্যারাইটির ধানের বীজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এগ্রোনমি ফিল্ডে চার বিঘা জমিতে বীজ বপন করে চারা উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। পরবর্তীতে রবি সিজনকে সামনে রেখে পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে সবজি জাতীয় চারা উৎপাদন বাস্তবায়ন করা হবে। আমাদের সকলের সম্মিলিত উদ্যোগে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন করা সম্ভব।'

 

এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞরা। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের হর্টিকালচার বিভাগের অধ্যাপক জামাল উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানায়। আশা করি তাদের এই উদ্দ্যেগ বন্যা পরবর্তী সময়ে খাদ্য সংকট মোকাবিলায় অনেকাংশে ভূমিকা রাখবে। আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে চাই। তিনি বলেন, কিউকারবিটস (সবজি, টমেটো,বেগুন ইত্যাদি) যেহেতু রবি সিজনের ফলন তাই সবজি এখনি লাগানো হচ্ছে না। রবি সিজনকে সামনে রেখে তা বাস্তবায়ন করা হবে এবং কৃষকদের মাঝে বীজ সরবরাহ করা হবে।

এগ্রোনমি বিভাগের অধ্যাপক রুহুল আমিন বলেন, শিক্ষার্থীদের মহৎ উদ্যোগ খাদ্যসঙ্কট মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করি। তা বাস্তবায়নে শিক্ষকরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। ইতোমধ্যে আমাদের সাথে শিক্ষার্থীরা বন্যা কবলিত এলাকায় ধান রোপনের বিষয়ে পরামর্শ করতে আসলে আমরা শিক্ষকরা মিলে BRRI এবং BADC তে ধান বীজের জন্য যোগাযোগ করি এবং বিএডিসি থেকে আমরা ৩০০ কেজির মতো ধান বীজ পায়। প্রায় চার বিঘা জমিতে বীজ গুলো বপনের প্রকিয়া চলমান।আমরা বিএডিসি থেকে আরোও ধান বীজ পাওয়ার জন্য যোগাযোগ রাখতেছি

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।