Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
জেলার খবর

আপন দুই ভাই, বয়সের ব্যবধান ২০দিনের

admin • 21 Sep 2024, 11:45 AM • পঠিত 0 বার
শেয়ার করুন:
আপন দুই ভাই, বয়সের ব্যবধান ২০দিনের

মোঃ মতিউর রহমান ও মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম আপন দুই ভাই। তাদের রয়েছে আলাদা আলাদা ছবি দিয়ে দুটি জাতীয় পরিচয় পত্র। দুই ভাইয়ের জাতীয় পরিচয় পত্র অনুযায়ী তাদের বয়সের ব্যবধান মাত্র ২০দিনের। বড় ভাই মোঃ মতিউর রহমান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরি শেষ করে অবসর গ্রহন করেছেন।

ছোট ভাই মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম একটি (এমপিও-ভুক্ত) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এই জালিয়াতির মত চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলায়।

তথ্য গোপন করে কৌশলে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে বড় ভাই সরকারি ও ছোট ভাই (এমপিও-ভুক্ত) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরি করছে কিভাবে এমন প্রশ্ন উঠেছে সচেতন মানুষের মাঝে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নের চর সগুনা গ্রামের বাসিন্দা আপন দু’ভাই মোঃ মতিউর রহমান ও মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম। পিতার নাম মো. ইমান আলী আর মাতার নাম মোছাঃ ফুলমতি বেগম। বড় ভাই মতিউর রহমান উচ্চ মাধ্যমিক পাশ ও ছোট ভাই মঞ্জুরুল ইসলাম অনার্স পাশ বলে জানা গেছে।

মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরি করেও সরাসরি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। তিনি ঘোষেরপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (এমপিও-ভুক্ত) চাকরি করেও সরাসরি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকে কিভাবে এ নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, তার জাতীয় পরিচয় পত্রে বড় ভাই মোঃ মতিউর রহমানের জন্ম তারিখ ১০ জুন ১৯৮০ইং এবং মো: মঞ্জুরুল ইসলামের জন্ম তারিখ ৩০ জুন ১৯৮০ইং সেই হিসেবে তাদের দুই ভাইয়ের বয়সের ব্যবধান মাত্র ২০ দিন।

মঞ্জুরুল ইসলাম ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নের চর সগুনা এসিএস উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। ২০১৪ সালে তিনি ঐ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে জয়েন করেন। সঠিক জন্ম তারিখ না দিয়ে চাকরি বয়স কমিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, আমার জাতীয় পরিচয় পত্রের সংশোধনের কাজ চলছে। নোটারী পাবলিক করে ঠিক করা হবে। ওই সময় কেরাবী স্যারেরা জন্ম তারিখ বসিয়ে দিয়েছে।

রাজনীতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুই বছর আগেই রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছি। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পদ থেকে রিজাইন দিয়েছি।

মেলান্দহ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আজাদুর রহমান ভূইয়া বলেন, বয়সের বিষয়টি তার সার্টিফিকেট যাচাই বাছাই করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এবিষয়ে মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এস. এম. আলমগীর বলেন, চাকরি নেওয়ার সময় যদি কোনো জালিয়াতি করে থাকে লিখিত অভিযোগ পেলে সেটা আমরা ব্যবস্থা নিবো।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।