Thursday, 3 September 2026
শিরোনাম
এক্সক্লসিভ

আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে পদযাত্রা, ১ ঘণ্টা যানচলাচল বন্ধ

admin • 14 Aug 2024, 10:44 PM • পঠিত 0 বার
শেয়ার করুন:
আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে পদযাত্রা, ১ ঘণ্টা যানচলাচল বন্ধ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে সপ্তাহব্যাপী রেজিস্ট্যান্স উইক কর্মসূচির অংশ হিসেবে দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচিতে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি এবং শহিদদের স্মরণে শাহবাগ থেকে রাফা প্লাজা অভিমুখে পদযাত্রা করেছে কোটা সংস্কার দাবিতে আন্দোলনকারীদের প্লাটফর্ম।

 

বুধবার (১৪ আগস্ট) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ এর ব্যানারে এ পদযাত্রা শুরু হয়েছে। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর সেখানে গিয়ে তারা পৌঁছায়, পরবর্তীতে সেখানে এক ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ।

এসময় তারা- ‘বিচার বিচার বিচার চাই, গণহত্যার বিচার চাই’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’, ‘মন্ত্রণালয়ের সচিব/কমিশনের প্রধানদের পদত্যাগ করতে হবে’, ‘দিয়েছি তো রক্ত, আরো দেবো রক্ত’, ‘রক্তের বন্যায়, ভেসে যাবে অন্যায়’, ‘শহিদের রক্ত, বৃথা যেতে দেবো না’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আজ আমরা যেখানে দাঁড়িয়েছে, এখানে ফাইয়াজকে হত্যা করা হয়। খুন-গুম-নির্যাতনের যে রাজনীতি তার আমরা শিকার হয়েছি। পৃথিবীর কোথাও এমন নেই যে, সরকার প্রধান তার লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে রাস্তায় শিক্ষার্থীদের মেরে ফেলেন৷ স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আপনাদের নৌকা ফুটো হয়ে গিয়েছে। যতই বৈঠা নিয়ে আসুন কোন কাজে দেবে না। নৌকার পাটাতন বাঙালিরা খুলে নিয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘যারা বিভাজনের রাজনীতি করবে, ফাইয়াজ, মুগ্ধ, আবু সাঈদকে হত্যা করবে; তাদের অবস্থা ৫ আগস্ট গণভবনের মতো হবে। ১৫ আগস্ট, এক মেকি শোক দিবস পালনে বাধ্য করা হতো৷ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেটি বাতিল করেছে, এখন শোনা যাচ্ছে একটি স্বার্থান্বেষী আইনজীবীমহল সেটির বিপরীতে রিট করেছে। ২০০৯ সালে একটি রিট করা হয়েছিল, এখন ঐ রিটে যেই রায়ই আসুক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন তা প্রত্যাখ্যান করবে। এই ৫৬ হাজার বর্গমাইল যতদিন না পর্যন্ত মূলোৎপাটন করা না হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত রাজপথ শিক্ষার্থীদের দখলে থাকবে।’

এসময় অন্যদের মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক রিফাত রশিদ আবু বাকের মজুমদার। পরে কোটা সংস্কার দাবির আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে দুই মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে রাত ৮টায় তারা ধানমন্ডি ১৭ এর রাফা প্লাজার সামনে অবস্থান ত্যাগ করে যার যার ক্যাম্পাসের উদ্দেশে পদযাত্রা নিয়ে যাত্রা শুরু করেন। এরপর দীর্ঘ এক ঘণ্টা আটকে থাকা যানচলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

গত ১৩ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে সপ্তাহব্যাপী রেজিস্ট্যান্স উইকের ঘোষণা দেওয়া হয়। এসময় নেতৃবৃন্দ ৪ দফা দাবি পেশ করেন। সেগুলো হলো-

১. ফ্যাসিবাদী কাঠামোকে ব্যবহার করে যেসব হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে, সেগুলোর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে।

২. সংখ্যালঘুদের ওপর আওয়ামী লীগ ও চৌদ্দদলসহ যারা পরিকল্পিত ডাকাতি ও লুণ্ঠনের মাধ্যমে গণ-অভ্যুত্থানকে বিতর্কিত করার প্রচেষ্টায় যারা অংশগ্রহণ করেছে, তাদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

৩. প্রশাসন ও বিচার বিভাগে যারা ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে হামলা, মামলা, এবং হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দিয়েছে এবং ফ্যাসিবাদ বারংবার কায়েমের চেষ্টা করেছে, তাদের দ্রুততম সময়ে অপসারণ ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

৪. প্রশাসন ও বিচার বিভাগে যারা এতদিন বৈষম্যের শিকার হয়েছে, তাদের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রসঙ্গত, ১৮ জুলাই ধানমন্ডির এই রাফা প্লাজার সামনে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ চলাকালে গুলিতে নির্মমভাবে নিহত হন ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেলে কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারহান ফাইয়াজ। তার প্রতি শ্রদ্ধা ও স্মরণে এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।

মন্তব্য (0)

কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যটি অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।