সাকিব আল হাসান নাহিদ, জামালপুর।
জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় রোগীর স্বজনদের হামলায় আহত হয়েছে তিনজন ইনটার্ন চিকিৎসক। এছাড়াও পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডের একটি কক্ষ ভাংচুর করেছে বিক্ষুব্ধ স্বজনেরা।
এর প্রতিবাদে সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত সাড়ে চারটার দিকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, রাত তিনটা ৫০ মিনিটের দিকে পৌরসভার রশিদপুর এলাকার গুল মাহমুদ নামে একজন রোগীকে জরুরী বিভাগ থেকে ভর্তির জন্য পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে প্রেরন করা হয়। সেই সময় পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে একজন রোগীকে সেবা প্রদান করছিলো। কিছুক্ষন পর সেই চিকিৎসকরা পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে ফিরে এসে রোগী গুল মাহমুদকে মৃত ঘোষনা করে। এরপরই গুল মাহমুদের স্বজনেরা তাদের উপর হামলা চালায় ও একটি কক্ষ ভাংচুর করে।
পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডের দুইজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, রাতে যখন রোগীটি আসে তখন সেহেরী খেতে গিয়েছিলো চিকিৎসকরা। রোগীর ছেলেরা অনেক চিৎকার করার পরেও কোনো ডাক্তার না আসলে পুরুষ মেডিসিনি ওয়ার্ডের ডিউটি ডাক্তারের রুম লাথি দিয়ে খুলে ভাংচুর করে। এর আগে রোগীকে তার ছেলেরা পানি খাওয়ানোর পরই মারা যায়। এতে আরো উত্তেজিত হয়ে পড়ে রোগীর ছেলেরা। এরপরে ডাক্তার আসলে ডাক্তারকে মারধর করে রোগীর দুই ছেলে।
হামলায় আহত তিন ইনটার্ন চিকিৎসক হলেন- ডা: মঞ্জুরুল হাসান জীবন, ডা: ফাহমিদুল ইসলাম ফাহাদ ও ডা: তুষার আহমেদ। হামলার পর থেকে দুই দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্ম বিরতির ডাক দিয়েছেন ইনটার্ন চিকিৎসকরা।
ইনটার্ন চিকিৎসক ডা: এম এ কাবী সিকান্দর আলম বলেন- সারাদেশে সকল হাসপাতালে চিকিৎসকের নিরাপত্তার জন্য নিরাপত্তা ফাড়ি স্থাপন এবং এই ঘটনায় দোষীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে আমরা কর্মবিরতি করছি। যতদিন পর্যন্ত আমাদের দাবি পূরন না হবে ততদিন পর্যন্ত আমাদের এই কর্মবিরতি চলবে। শুধু শুধু আমাদের চিকিৎসকের উপর হামলা করবে এটা আমর কখনো মেনে নিবো না।
এই ঘটনায় জামালপুর থানায় অভিযোগ দেয়ার পাশাপাশি রোগীদের দূর্ভোগ কমাতে কর্মবিরতি তুলে নেয়ার আশা ব্যাক্ত করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আর দুপুরে গুল মাহমুদের মরদেহ স্বজনের কাছে হস্তান্তরের পর পুলিশ জানায় তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন তারা।
জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা: মাহফুজুর রহমান সোহান বলেন-‘ঘটনার পরে আমরা সদর থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছি। পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবে। আর কর্ম বিরতির জন্য যদি কোনো দূর্ভোগ হয়। তাহলে আমি চিকিৎসকদের সাথে কথা বলে কর্ম বিরতি তুলে নেয়ার ব্যবস্থা গ্রহন করবো। যাতে রোগীদের কোনো দূর্ভোগ না হয়।’
এসব বিষয়ে জামালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মহব্বত কবির বলেন-‘ঘটনার পরপরই আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং দুই পক্ষের সাথে কথা বলেছি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রোগীর ছেলে হায়দারকে আটক করি এবং এরপর তাকে আমরা স্থানীয় কাউন্সিলরের জিম্মায় দিয়েছি।
ওসি মুহাম্মদ মহব্বত কবির আরো বলেন-‘দুপুরে আমরা গুল মাহমুদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করি। এছাড়াও পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে আমরা প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবো। ’
এর আগে ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ এনে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসকের উপর হামলা করে স্বজনেরা। এরপর টানা কর্ম বিরতিতে যায় জেলার সকল চিকিৎসক।





